তদন্তে বড় ফাঁক, আর সেই সুযোগেই স্বস্তি অভিযুক্তদের—বেলডাঙা কাণ্ডে ৯০ দিনের মধ্যে চার্জশিট জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ১৫ জনকে জামিন দিল বিশেষ আদালত। National Investigation Agency-এর তদন্তে এই গাফিলতি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
সূত্রের খবর, গ্রেপ্তার হওয়া মোট ৩৫ জনের মধ্যে ১৫ জনের জামিন মঞ্জুর করেছেন বিচারক Sukumar Ray। প্রত্যেক অভিযুক্তকে ১০ হাজার টাকার বন্ডে জামিন দেওয়া হয়েছে। তবে জামিন পেলেও একাধিক শর্ত বেঁধে দিয়েছে আদালত—তদন্তকারী আধিকারিকদের কাছে যোগাযোগের নম্বর জমা রাখা, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করা এবং শুনানির দিন আদালতে ব্যক্তিগতভাবে হাজির থাকা বাধ্যতামূলক।
তবে এখনও মুক্তি মেলেনি বাকি ২০ জনের। তাঁরা আপাতত জেল হেফাজতেই রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে Beldanga-এ এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ ওঠে, ঝাড়খণ্ডে ওই শ্রমিককে খুন করা হয়েছিল। এর জেরে বেলডাঙায় রেল অবরোধ, জাতীয় সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর এবং সংবাদমাধ্যমের উপর হামলার মতো একাধিক ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী।
পরবর্তীতে Calcutta High Court-এর নির্দেশে তদন্তভার যায় এনআইএর হাতে। এরপর একে একে ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালতের নির্দেশে তাঁদের জেল হেফাজতে রাখা হয়।
কিন্তু তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে কোনও চূড়ান্ত চার্জশিট বা প্রামাণ্য নথি জমা দিতে পারেনি এনআইএ। ফলে আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের ‘ডিফল্ট বেল’-এর সুযোগ তৈরি হয়, যার ভিত্তিতেই ১৫ জনের জামিন মঞ্জুর হয়েছে।
এই ঘটনায় একদিকে যেমন তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তেমনই আইনশৃঙ্খলা ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।



