‘খারাপ লাগে, কিন্তু ১৫ বছর ধরে যা হয়েছে…’, হালিশহরে মমতার বিক্ষোভ নিয়ে বিস্ফোরক ঋতব্রত

হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয় ঘিরে বিক্ষোভের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের। হামলার নিন্দার পাশাপাশি ১৫ বছরের শাসন ও দুর্নীতির অভিযোগে নিশানা করলেন মমতাকে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ ও কাদা-জুতো ছোড়ার ঘটনায় এবার মুখ খুললেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর উপর হামলার ঘটনায় ‘খারাপ লাগে’ বলেও তৃণমূল সরকারের ১৫ বছরের শাসনকালের দিকে আঙুল তুলেছেন তিনি। ঋতব্রতের দাবি, দীর্ঘদিনের ‘প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি’ এবং লুঠের অভিযোগের জেরেই মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তবে মমতার উপর হামলার ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে।

রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহরে নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে ঘিরেই স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বিক্ষোভ শুরু হয়। অভিযোগ, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা ও জুতো ছোড়া হয়। বিক্ষোভকারীদের মুখে শোনা যায় ‘চোর চোর’ স্লোগান। মমতাকে ‘ডাকাতরানি’ বলেও কটাক্ষ করা হয় বলে অভিযোগ।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভের মধ্যেই নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মমতা। পরে গোটা ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

হালিশহরের এই ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে ঋতব্রত বলেন, একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর উপর হামলার ঘটনা তাঁর কাছে দুঃখজনক। কিন্তু একইসঙ্গে গত ১৫ বছরের শাসনকালের নানা অভিযোগের প্রসঙ্গ সামনে আনেন তিনি। তাঁর দাবি, এই দীর্ঘ সময়ে ব্যাপক দুর্নীতি এবং ‘সংগঠিত লুঠ’ হয়েছে।

ক্যাগের রিপোর্টে উঠে আসা দুর্নীতির অভিযোগের প্রসঙ্গও টেনে আনেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর বক্তব্য, একের পর এক অভিযোগ সামনে আসায় বর্তমান সরকারও অস্বস্তিতে পড়ছে। তবে সেই রাজনৈতিক দায় আগের সরকারের উপরই বর্তায় বলে দাবি তাঁর।

ঋতব্রতের কথায়, ‘একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর উপরে হামলা খারাপ লাগে।’ কিন্তু এরপরই তাঁর প্রশ্ন, এতদিন ধরে যে অভিযোগগুলি সামনে এসেছে, তার রাজনৈতিক দায় কে নেবে? তাঁর মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘ সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। ফলে তাঁর আমলের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার বিষয়ে মানুষের প্রশ্ন থাকা স্বাভাবিক।

নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন ঋতব্রত। তিনি জানান, উলুবেড়িয়া থেকে নিয়মিত যাতায়াত করলেও তাঁর ক্ষেত্রে কেউ ‘চোর চোর’ স্লোগান দেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের দীর্ঘদিনের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বলেই তাঁকে ঘিরে মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বিরোধী দলনেতা।

হালিশহরের ঘটনার নেপথ্যে অবশ্য স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগও রয়েছে। তাঁদের একাংশের দাবি, শান্ত এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করতেই মমতা সেখানে গিয়েছিলেন। যদিও নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করাই তাঁর সফরের উদ্দেশ্য ছিল বলে তৃণমূলের বক্তব্য।

এদিকে মমতার উপর বিক্ষোভের ঘটনায় তৃণমূলের তরফেও পাল্টা অভিযোগ তোলা হয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দল। ফলে একদিকে পুলিশ হেফাজতে তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ, অন্যদিকে সেই পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে মমতার কনভয় ঘিরে বিক্ষোভ—হালিশহরের ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে সংঘাতের আবহ তৈরি করেছে।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর উপর হামলার ঘটনাকে একদিকে নিন্দনীয় বলছেন রাজনৈতিক নেতারা, অন্যদিকে সেই ঘটনার কারণ হিসেবে পুরনো সরকারের শাসনকালের দুর্নীতির অভিযোগকে সামনে আনছে বিরোধী শিবির। ফলে হালিশহরের বিক্ষোভ শুধু একটি স্থানীয় ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংঘাতের আরও একটি বড় ইস্যু হয়ে উঠছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন