দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court)। স্থায়ী প্রধান বিচারপতি পেতে চলেছে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই হাই কোর্ট। বিচারপতি রবীন্দ্র বিঠ্ঠলরাও ঘুগেকে কলকাতা হাই কোর্টের পরবর্তী প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করেছে সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম। বর্তমানে তিনি বম্বে হাই কোর্টের (Bombay High Court) ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে রয়েছেন। এখন কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি জারির অপেক্ষা, তারপরই কলকাতা হাই কোর্টের স্থায়ী প্রধান বিচারপতি হিসেবে তাঁর শপথের পথ পরিষ্কার হবে।
গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম বৈঠকে বিচারপতি ঘুগেকে কলকাতা হাই কোর্টে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন কলেজিয়ামই হাই কোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগ এবং বদলির বিষয়ে কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ করে। সেই বৈঠকের পর শীর্ষ আদালতের তরফে বিবৃতি প্রকাশ করে ঘুগেকে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি করার সুপারিশের কথা জানানো হয়।
কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির পদটি গত ২০ জুন থেকে স্থায়ী ভাবে পূর্ণ হয়নি। ওই দিন বিচারপতি সুজয় পাল অবসর নেওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী। এবার কলেজিয়ামের সুপারিশ কার্যকর হলে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে এবং বিচারপতি ঘুগে স্থায়ী প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নেবেন।
বিচারপতি রবীন্দ্র বিঠ্ঠলরাও ঘুগের দীর্ঘ বিচারিক ও আইনজীবী জীবনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদের এমপি ল’ কলেজ থেকে আইন নিয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর ১৯৯০ সালে আইনি পেশায় যোগ দেন তিনি। বম্বে হাই কোর্ট এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোর্টে আইনজীবী হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন।
পরবর্তীতে ২০১৩ সালে বম্বে হাই কোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন ঘুগে। বিচারপতি হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানির অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।
গত জুনে বম্বে হাই কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি শ্রী চন্দ্রশেখর সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পর ওই হাই কোর্টে প্রধান বিচারপতির পদ খালি হয়। এরপর থেকেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন বিচারপতি ঘুগে।
এবার সেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব ছেড়ে কলকাতা হাই কোর্টের স্থায়ী প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কলেজিয়ামের সুপারিশের পর এখন কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর। সেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলেই নিয়োগের পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে।



