প্রতীক-নাম নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেই ধূপগুড়িতে তৃণমূলের ৩০ পরিবার কংগ্রেসে

নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনের মধ্যেই ধূপগুড়িতে তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিলেন প্রায় ৩০টি পরিবার। নতুন করে চর্চায় তৃণমূল-কংগ্রেস সমীকরণ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের ঘোষণা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার মধ্যেই তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন পরিস্থিতি। এই আবহে জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিলেন প্রায় ৩০টি পরিবারের সদস্যরা। শুক্রবার রাতে ধূপগুড়ি জাতীয় কংগ্রেস কার্যালয়ে তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়।

নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী নতুন নাম ও প্রতীক পেয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মমতা-শিবিরের নাম ‘Mamata All India Trinamool Congress’ (MAITC) এবং প্রতীক ‘Football Player’। অন্য গোষ্ঠী পেয়েছে ‘Democratic Trinamool Congress’ নাম ও ‘Envelope’ প্রতীক।

এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই ধূপগুড়িতে দলবদলের ঘটনা সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্র ও প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে, গাদং-১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এবং সাকোয়াহারা-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার প্রায় ৩০টি পরিবার তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছে। তাঁদের হাতে কংগ্রেসের পতাকা তুলে দেন ধূপগুড়ি টাউন ব্লক কংগ্রেস সভাপতি হরিশ রায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নবিউল ইসলাম, আজিবুল ইসলাম এবং অজয় বসাক।

এই যোগদান নিয়ে স্থানীয় কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই এবং বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করেই তৃণমূলের নীচুতলার কিছু কর্মী-সমর্থক কংগ্রেসের দিকে আসছেন। তাঁদের বক্তব্য, এই দলবদলের ফলে ধূপগুড়িতে কংগ্রেসের সাংগঠনিক পরিসর আরও বাড়বে।

তবে দলবদলকারীদের রাজনৈতিক অবস্থানের ব্যাখ্যা কংগ্রেস নেতৃত্বের বক্তব্য হিসেবেই সামনে এসেছে। তাঁদের প্রত্যেকের দলবদলের ব্যক্তিগত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে এই যোগদানের পিছনে ঠিক কী কী কারণ কাজ করেছে, তা নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ এখনও নেই।

এরই মধ্যে নন্দীগ্রাম নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তও রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মমতা-শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করার পর কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছেন মমতা। তিনি জানিয়েছেন, নন্দীগ্রামে তাঁর দল কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করবে।

এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নাম ও প্রতীক সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের সময়কালও গুরুত্বপূর্ণ। কমিশন মূল ‘All India Trinamool Congress’ নাম এবং ‘Flowers & Grass’ প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর দুই গোষ্ঠীর জন্য পৃথক নাম ও প্রতীক নির্ধারণ করেছে। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে এই নতুন পরিচয়েই সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলিকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হচ্ছে।

ফলে একদিকে নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে সমর্থন, অন্যদিকে তৃণমূলের নীচুতলার কর্মী-সমর্থকদের একাংশের কংগ্রেসে যোগদান—দুই ঘটনাই নতুন করে তৃণমূল-কংগ্রেস সম্পর্ক নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি করেছে। তবে ধূপগুড়ির ৩০টি পরিবারের দলবদল স্থানীয় সংগঠনে দীর্ঘমেয়াদে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়।

উপনির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনীতিতে দ্রুত বদলাচ্ছে সমীকরণ। তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত, নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে মমতার সমর্থন এবং বিভিন্ন এলাকায় দলবদল—সব মিলিয়ে আগামী দিনে রাজ্যের বিরোধী রাজনীতিতে কী প্রভাব পড়ে, এখন সেদিকেই নজর।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন