দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই আধ্যাত্মিক আবহে নিজেকে জড়িয়ে রাখছেন অভিনেতা রণবীর সিং (Ranveer Singh)। কখনও আম্বানিদের গণেশ পুজোয়, আবার কখনও মুম্বইয়ের ঐতিহ্যবাহী লালবাগচা রাজা (Lalbaugcha Raja)-র দরবারে দেখা যাচ্ছে তাঁকে। বৃহস্পতিবার গণেশ চতুর্থীর আবহে লালবাগচা রাজার দর্শনে গিয়ে শুধু আশীর্বাদই নিলেন না, সমাজসেবার ক্ষেত্রেও বড় একটি সংকল্পের কথা জানালেন অভিনেতা।
সাদা সাদামাটা কুর্তা পরে এ দিন লালবাগচা রাজার মন্দিরে পৌঁছন রণবীর। তাঁকে ঘিরে ছিল পাপারাজ্জিদের ভিড়। দর্শন শেষে অভিনেতা জানান, গত এক বছর তাঁর এবং পরিবারের জন্য আনন্দ ও শুভ সময়ের মধ্য দিয়ে কেটেছে। সেই কারণেই বাপ্পার কাছে কৃতজ্ঞতা জানাতে এবং আগামী দিনের জন্য আশীর্বাদ চাইতেই তাঁর এই সফর।
রণবীরের কথায়, গণপতি বাপ্পার কৃপায় গত বছর তাঁর পরিবারে একাধিক আনন্দের মুহূর্ত এসেছে। তাই আগামী দিনগুলিও যাতে সুখ-শান্তি ও ভালোবাসায় কাটে, সেই প্রার্থনাই করেছেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি সমাজের জন্য কিছু করার ইচ্ছার কথাও এ দিন স্পষ্ট করে জানান অভিনেতা।
১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) জন্মদিন উপলক্ষে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর সঙ্গেও যুক্ত হওয়ার কথা ঘোষণা করেন রণবীর। এই উদ্যোগের মাধ্যমে এক হাজার শিশুকন্যার পড়াশোনায় সহায়তার দায়িত্ব নেওয়ার সংকল্প করেছেন তিনি। গণেশ চতুর্থীর শুভ দিনে এই সামাজিক উদ্যোগকে নিজের প্রার্থনারই অংশ হিসেবে দেখছেন অভিনেতা।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে রণবীর বলেন, লালবাগচা রাজার সামনে এসে তাঁর অত্যন্ত ভালো লাগছে। বাপ্পার আশীর্বাদে গত বছর তাঁর এবং পরিবারের জন্য আনন্দময় ছিল বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, সেই কৃতজ্ঞতা থেকেই দেবতার দর্শনে এসেছেন। একইসঙ্গে ভবিষ্যতের পথচলার জন্যও গণপতির আশীর্বাদ চেয়েছেন তিনি।
রণবীরের এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর বৃহত্তর সামাজিক কর্মসূচিও। গণেশ চতুর্থী এবং প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে এক হাজার মেয়ের শিক্ষায় সহায়তা করার সংকল্পের কথা জানিয়ে অভিনেতা আশা প্রকাশ করেছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে গণপতি বাপ্পার আশীর্বাদ আরও পাওয়া যাবে।
এ দিকে একই উদ্যোগের অধীনে অভিনেত্রী আলিয়া ভাট (Alia Bhatt) এবং রণবীর কাপুর (Ranbir Kapoor)-ও শিক্ষা পরিকাঠামোর উন্নয়নে অংশ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (BMC)-এর সুপারিশ অনুযায়ী ২০টি স্কুল সংস্কারে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাঁরা।
এই স্কুলগুলিতে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা উন্নত করার পাশাপাশি পড়ুয়াদের শিক্ষার পরিবেশ আরও ভালো করার লক্ষ্য রয়েছে এই উদ্যোগের। এর ফলে শিশুদের পড়াশোনার পাশাপাশি তাঁদের সামগ্রিক ও মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রেও সহায়তা মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে আলিয়া ভাটও এই উদ্যোগের তাৎপর্য তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, একসঙ্গে কাজ করে সমাজকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার ভাবনাই এই অভিযানের মূল বার্তা। ফলে গণেশ চতুর্থীর উৎসবের আবহে রণবীরের এক হাজার কন্যার শিক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা এবং আলিয়া-রণবীর কাপুরের স্কুল সংস্কারের অঙ্গীকার—দুই উদ্যোগই নজর কেড়েছে।



