চলচ্চিত্রে কোন ছবি দর্শকের সামনে কীভাবে প্রদর্শিত হবে, সেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশন (CBFC)-এর নতুন সদস্যদের তালিকায় জায়গা পেলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের ১৬ সেপ্টেম্বরের বিজ্ঞপ্তিতে ১৮ জন সদস্যের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন আরও এক বাঙালি অভিনেত্রী রূপালি গঙ্গোপাধ্যায়।
২০১৭ সালের পর ফের পুনর্গঠন করা হল সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশন। কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন বোর্ড অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে এবং তিন বছর অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবে। নতুন বোর্ডটি গঠন করা হয়েছে সিনেমাটোগ্রাফ আইন, ১৯৫২ এবং সিনেমাটোগ্রাফ (সার্টিফিকেশন) রুলস, ২০২৪-এর অধীনে।
নতুন ১৮ সদস্যের তালিকায় বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত মুখ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে। দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে বাংলা ছবিতে কাজ করছেন তিনি। এই নতুন দায়িত্ব প্রসঙ্গে অভিনেতা জানিয়েছেন, তিনি সম্মানিত এবং খুশি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলা চলচ্চিত্র জগতের প্রতিনিধি হিসেবে এই দায়িত্ব যথাসম্ভব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে চান।
প্রসেনজিতের পাশাপাশি তালিকায় রয়েছেন হিন্দি টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রূপালি গঙ্গোপাধ্যায়। এছাড়াও রয়েছেন পঙ্কজ ত্রিপাঠী, প্রীতি জ়িন্টা, সুনীল শেট্টী, মনোজ জোশী, পল্লবী জোশী, নিশিগন্ধা ওয়াড এবং পরিচালক প্রিয়দর্শন। ফলে নতুন বোর্ডে ভারতীয় চলচ্চিত্রের বিভিন্ন ভাষা ও মাধ্যমের পরিচিত মুখের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তির সম্পূর্ণ তালিকায় রয়েছেন বিনোদ অনুপম, মনোজ জোশী, অভিষেক জৈন, রিকি কেজ, প্রিয়দর্শন, সুনীল শেট্টী, হংসরাজ হংস, সুপ্রিয়া ইয়ারলাগাড্ডা, যতীন্দ্র মিশ্র, রূপালি গঙ্গোপাধ্যায়, প্রীতি জ়িন্টা, নীলা মাধব পণ্ডা, পঙ্কজ ত্রিপাঠী, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, পল্লবী জোশী, নিশিগন্ধা ওয়াড, বামন কেন্দ্রে এবং রমেশ পতঙ্গে।
এই বোর্ডের মূল দায়িত্ব হল ভারতে জনসাধারণের প্রদর্শনের জন্য সিনেমাকে সার্টিফিকেশন দেওয়া। অর্থাৎ কোনও ছবি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়ায় CBFC-র ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নতুন বোর্ডে অভিনেতা-অভিনেত্রী, পরিচালক, প্রযোজক, সুরকার, লেখক ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রের প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে।
নতুন তালিকায় সঙ্গীতশিল্পী রিকি কেজ এবং গায়ক তথা রাজনীতিক হংসরাজ হংসের মতো নামও রয়েছে। চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রিয়দর্শন, নীলা মাধব পণ্ডা এবং অভিষেক জৈনের পাশাপাশি লেখক ও কলামনিস্ট যতীন্দ্র মিশ্র এবং রমেশ পতঙ্গেও বোর্ডে রয়েছেন। সরকারি তালিকায় মোট ১৮ জন সদস্যের নাম প্রকাশ করা হয়েছে।
নতুন বোর্ডের নেতৃত্বে রয়েছেন চেয়ারম্যান শশী শেখর ভেম্পতি। ২০২৬ সালের মে মাসে তাঁকে CBFC-র চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পুনর্গঠনের খবর প্রকাশ্যে আসার পর ফের আলোচনায় এসেছে চলচ্চিত্রের সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা এবং বোর্ডের ভূমিকা। বিশেষ করে সিনেমার বিষয়বস্তু, সার্টিফিকেশন ক্যাটেগরি এবং সংশোধন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে CBFC-র ভূমিকা নিয়ে চলচ্চিত্র মহলে বরাবরই আগ্রহ থাকে। নতুন বোর্ডের মেয়াদ তিন বছর হওয়ায় আগামী সময়ে তাদের নেওয়া সিদ্ধান্তও নজরে থাকবে।
অন্যদিকে, বড়পর্দার পাশাপাশি ওটিটি কনটেন্ট নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত অতীতে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের বিষয়বস্তু নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর উদ্যোগে একটি প্যানেলও তৈরি হয়েছে, যেখানে শিক্ষা ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের কয়েক জন প্রাক্তন উপাচার্য এবং আরএসএসের প্রচারক রয়েছেন। প্যানেলের তরফে ওটিটি বিষয়বস্তু নিয়ে প্রস্তাব তৈরির পরিকল্পনার কথাও সামনে এসেছে।
তবে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য নতুন কোনও সেন্সর বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত এই CBFC পুনর্গঠনের সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে ঘোষণা করা হয়নি। নতুন ১৮ সদস্যের বোর্ডটি বর্তমানে মূলত চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন ব্যবস্থার দায়িত্বেই থাকছে।



