বিশ্বকর্মা শুধু পুজোর দেবতা নন, হিন্দু পৌরাণিক সাহিত্যে তিনি দেবতাদের স্থপতি, কারিগর ও নির্মাতা হিসেবে পরিচিত। লঙ্কা থেকে দ্বারকা, পুষ্পক বিমান থেকে ইন্দ্রের বজ্র—তাঁকে ঘিরে রয়েছে একাধিক উল্লেখযোগ্য পৌরাণিক কাহিনি।
বিশ্বকর্মা পুজো এলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ফুলে সাজানো মেশিন, গাড়ি, কারখানা আর যন্ত্রপাতি। কিন্তু যাঁকে ঘিরে এই আরাধনা, সেই বিশ্বকর্মা (Vishvakarma) আসলে কে?
হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্যে বিশ্বকর্মাকে বলা হয় দেবশিল্পী বা দেবতাদের স্থপতি। বৈদিক সাহিত্যে ‘বিশ্বকর্মা’ নামটি সৃষ্টিশক্তি ও বিশ্বনির্মাণের ধারণার সঙ্গে যুক্ত। পরবর্তী মহাকাব্য ও পুরাণে তাঁর পরিচয় আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে—তিনি দেবতাদের জন্য প্রাসাদ, নগর, রথ, অস্ত্র ও নানা অলৌকিক নির্মাণ তৈরি করেন।
তবে বিশ্বকর্মাকে ঘিরে সব কাহিনি একই গ্রন্থে বা একইভাবে পাওয়া যায় না। পুরাণ, মহাভারত ও রামায়ণের বিভিন্ন পর্বে তাঁর ভূমিকা সম্পর্কে আলাদা আলাদা আখ্যান রয়েছে। তাই নিচের ঘটনাগুলিকে পৌরাণিক কাহিনি হিসেবেই দেখা উচিত, ঐতিহাসিক নির্মাণের নথি হিসেবে নয়।
[বিশ্বকর্মা পুজো ২০২৬: কবে, কখন পুজো? জানুন তিথি, শুভক্ষণ, নিয়ম ও পৌরাণিক কাহিনি]
[বিশ্বকর্মা পুজোয় কেন ঘুড়ি ওড়ানো হয়? বাঙালির প্রিয় এই রীতির পিছনে কী ইতিহাস]
[বিশ্বকর্মা পুজোয় কেন গাড়ি-মেশিনের পুজো হয়? দেবশিল্পীর সঙ্গে যন্ত্রের সম্পর্ক জানুন]
বিশ্বকর্মার পরিচয় কী?
পরবর্তী পুরাণীয় ধারায় বিশ্বকর্মাকে দেবতাদের প্রধান স্থপতি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। একটি পুরাণ-ভিত্তিক সংকলনে তাঁকে প্রজাপতি, প্রভাসের পুত্র এবং দেবতাদের স্থপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সূত্রে বলা হয়েছে, তিনি নানা কারুশিল্পের উদ্ভাবক, অলঙ্কার নির্মাতা এবং দেবতাদের আকাশযানের নির্মাতা।
এই কারণেই বিশ্বকর্মার সঙ্গে শুধু মন্দির বা প্রাসাদ নয়, স্থাপত্য, প্রকৌশল, কারুশিল্প, অস্ত্রনির্মাণ এবং প্রযুক্তির ধারণাও জড়িয়ে গেছে।
আজকের দিনে যে কারণে কারখানার মেশিন থেকে মেকানিকের টুলবক্স—সবকিছুর পুজো হয়, তার সাংস্কৃতিক ভিত্তিটিও এই দেবশিল্পীর পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত।
লঙ্কা—সোনার নগরী কি বিশ্বকর্মার সৃষ্টি?
বিশ্বকর্মার সঙ্গে যুক্ত সবচেয়ে আলোচিত স্থাপত্যগুলির মধ্যে রয়েছে লঙ্কা।
বাল্মীকি রামায়ণের কিষ্কিন্ধ্যাকাণ্ডে লঙ্কাপুরীকে বিশ্বকর্মার নির্মিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে সমুদ্রের দ্বীপে অবস্থিত সুন্দর লঙ্কা নগরীর নির্মাতা হিসেবে বিশ্বকর্মার নাম রয়েছে।
সুন্দরকাণ্ডে হনুমানের লঙ্কায় প্রবেশের সময় নগরটির যে বর্ণনা পাওয়া যায়, তাতে উঁচু প্রাসাদ, সুরক্ষিত প্রাকার, বিশাল তোরণ, পরিখা এবং আকাশছোঁয়া স্থাপত্যের কথা উঠে আসে। রামায়ণের বর্ণনায় নগরীটিকে এমনভাবে তুলে ধরা হয়েছে যেন তা আকাশে ভাসছে।
পরবর্তী পৌরাণিক ধারায় আবার বলা হয়, বিশ্বকর্মা কুবেরের জন্য লঙ্কা নির্মাণ করেছিলেন এবং পরে রাবণ কুবেরকে পরাজিত করে সেই নগরীর দখল নেন।
অর্থাৎ, লঙ্কার নির্মাণ নিয়ে বিভিন্ন আখ্যান থাকলেও বাল্মীকি রামায়ণের একটি গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনায় বিশ্বকর্মাকেই তার নির্মাতা বলা হয়েছে।
দ্বারকা—কৃষ্ণের নগরীও কি বিশ্বকর্মার তৈরি?
বিশ্বকর্মার আরেক বিখ্যাত নির্মাণ হল দ্বারকা (Dwarka)।
পুরাণীয় কাহিনিতে কৃষ্ণের জন্য সমুদ্রের কাছে যে সুরক্ষিত নগরী নির্মাণের কথা বলা হয়েছে, তার সঙ্গে বিশ্বকর্মার নাম যুক্ত। একটি পুরাণ-ভিত্তিক সংকলনে দ্বারকাকে বিশ্বকর্মার নির্মিত নগরী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
হরিবংশের একটি বর্ণনায় দ্বারকার পরিকল্পনা, প্রশস্ত রাস্তা, প্রাসাদ, উদ্যান, জলাশয় এবং নানা স্থাপত্যের বিস্তারিত চিত্র পাওয়া যায়। সেখানে বিশ্বকর্মাকে নগরীর নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে এবং বিভিন্ন রাজপ্রাসাদও তাঁর নির্মাণ বলে বর্ণিত হয়েছে।
পৌরাণিক কাহিনিতে তাই দ্বারকা শুধু একটি শহর নয়, দেবশিল্পীর অসাধারণ স্থাপত্যদক্ষতার প্রতীক।
দেবতাদের প্রাসাদও নাকি তাঁর হাতে তৈরি
বিশ্বকর্মার নির্মাণকাজ শুধু লঙ্কা বা দ্বারকায় সীমাবদ্ধ নয়।
পুরাণীয় সংকলনে বলা হয়েছে, তিনি যমের প্রাসাদ, বরুণের প্রাসাদ এবং দেবতাদের বিভিন্ন আবাস নির্মাণ করেছিলেন। ইন্দ্রের সভাতেও তাঁর উপস্থিতির উল্লেখ রয়েছে।
এই কাহিনিগুলিতে বিশ্বকর্মা কার্যত এমন এক দিব্য স্থপতি, যাঁর কাজের পরিধি দেবতাদের রাজপ্রাসাদ থেকে শুরু করে যুদ্ধের রথ পর্যন্ত বিস্তৃত।
পুষ্পক বিমানও কি বিশ্বকর্মার তৈরি?
বিশ্বকর্মাকে ঘিরে সবচেয়ে আকর্ষণীয় কাহিনিগুলির একটি হল পুষ্পক বিমান (Pushpaka Vimana)।
পুরাণীয় সংকলনে পুষ্পককে বিশ্বকর্মার নির্মিত আকাশযান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রামায়ণের কাহিনিতে পুষ্পক বিমান প্রথমে কুবেরের সঙ্গে যুক্ত এবং পরে রাবণের দখলে যায়। রাবণকে পরাজিত করার পর রাম, সীতা ও লক্ষ্মণ সেই আকাশযানে অযোধ্যায় ফেরেন—এমন বর্ণনা ভারতীয় মহাকাব্যিক ঐতিহ্যে অত্যন্ত পরিচিত।
এখানে মনে রাখা দরকার, পুষ্পক বিমান একটি পৌরাণিক আকাশযান। আধুনিক বিমান প্রযুক্তির সঙ্গে এর সরাসরি ঐতিহাসিক বা বৈজ্ঞানিক সমতুল্যতা দাবি করার মতো প্রমাণ নেই।
শুধু স্থপতি নন, অস্ত্রনির্মাতাও বিশ্বকর্মা
বিশ্বকর্মার পরিচয়ের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল তাঁর সঙ্গে যুক্ত দিব্যাস্ত্র নির্মাণের কাহিনি।
ইন্দ্রের বজ্র
সবচেয়ে বিখ্যাত অস্ত্রগুলির একটি হল বজ্র (Vajra)।
পুরাণীয় কাহিনিতে অসুর বৃত্রকে পরাজিত করতে এমন একটি অস্ত্রের প্রয়োজন হয়েছিল, যা অত্যন্ত শক্তিশালী। ঋষি দধীচি নিজের অস্থি দান করেন। সেই অস্থি দিয়ে বিশ্বকর্মা একটি শক্তিশালী অস্ত্র তৈরি করেন এবং সেটিই ইন্দ্রের বজ্র হিসেবে পরিচিত হয়।
মহাভারতের বনপর্বেও দধীচির অস্থি থেকে ইন্দ্রের জন্য অস্ত্র তৈরির এই কাহিনি পাওয়া যায়।
এই কাহিনির মধ্যেই বিশ্বকর্মার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী পরিচয় রয়েছে—প্রয়োজন অনুযায়ী উপাদানকে অসাধারণ শক্তির অস্ত্রে রূপান্তর করার দেবশিল্পী।
সুদর্শন চক্র
বিশ্বকর্মার সঙ্গে সুদর্শন চক্রের সম্পর্কও একটি গুরুত্বপূর্ণ পৌরাণিক কাহিনিতে পাওয়া যায়।
একটি পুরাণীয় আখ্যান অনুযায়ী, সূর্যের অতিরিক্ত তেজ কমানোর সময় বিশ্বকর্মার কাছে সূর্যের দীপ্তির একটি অংশ আসে। সেই উপাদান থেকেই তিনি বিভিন্ন দিব্যাস্ত্র তৈরি করেন। সেই তালিকায় রয়েছে সুদর্শন চক্র, শিবের ত্রিশূল এবং সুব্রহ্মণ্যর শক্তি।
তবে সুদর্শন চক্রের উৎপত্তি নিয়ে একাধিক পৌরাণিক কাহিনি রয়েছে। তাই এটিকে একমাত্র বা সর্বসম্মত উৎস হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।
শিবের ত্রিশূলও কি বিশ্বকর্মার তৈরি?
উপরের একই পুরাণীয় আখ্যান অনুযায়ী, সূর্যের তেজ থেকে বিশ্বকর্মা যে দিব্যাস্ত্রগুলি নির্মাণ করেছিলেন, তার মধ্যে শিবের ত্রিশূলও ছিল।
অর্থাৎ, এই কাহিনি অনুযায়ী একই দেবশিল্পীর নির্মাণকর্মের সঙ্গে বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র এবং শিবের ত্রিশূল—দুই গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রই যুক্ত।
বিজয় ধনুকের সঙ্গেও বিশ্বকর্মার নাম
বিশ্বকর্মাকে ‘বিজয়’ ধনুকের নির্মাতা হিসেবেও একটি পুরাণীয় সংকলনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তিনি বিজয় নামের ধনুক তৈরি করে ইন্দ্রকে দিয়েছিলেন।
এখানেও বিভিন্ন গ্রন্থে অস্ত্রের উৎপত্তি ও মালিকানা নিয়ে আখ্যানের পার্থক্য রয়েছে। তাই কোনও একটি কাহিনিকে সব ঐতিহ্যের একমাত্র সংস্করণ হিসেবে দেখা উচিত নয়।
ত্রিপুরাসুর বধের রথ
শিবের ত্রিপুরাসুর বধের সঙ্গেও বিশ্বকর্মার নির্মাণদক্ষতার কাহিনি জড়িয়ে আছে।
পুরাণীয় সংকলনে বলা হয়েছে, ত্রিপুর দহনের সময় বিশ্বকর্মা শিবের জন্য একটি দিব্য রথ নির্মাণ করেছিলেন।
এখানে বিশ্বকর্মার ভূমিকা আবারও অস্ত্রের কারিগর হিসেবে নয়, বরং যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পূর্ণ রথ ও সামরিক কাঠামোর নির্মাতা হিসেবে সামনে আসে।
একটি ভুল ধারণা: ইন্দ্রপ্রস্থের সভা কি বিশ্বকর্মা তৈরি করেছিলেন?
বিশ্বকর্মাকে নিয়ে লেখার সময় একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি।
মহাভারতের মায়াসভা বা ইন্দ্রপ্রস্থের বিখ্যাত সভাগৃহকে অনেক সময় বিশ্বকর্মার নির্মাণ বলে প্রচার করা হয়। কিন্তু মহাভারতের কাহিনিতে এই সভা নির্মাণের সঙ্গে ময়দানব (Maya)-এর নাম যুক্ত।
খাণ্ডবদাহের সময় অর্জুন ময়কে রক্ষা করার পর, ময় কৃতজ্ঞতা হিসেবে কৃষ্ণের অনুরোধে পাণ্ডবদের জন্য সেই অসাধারণ সভা নির্মাণ করেন। সেখানে জল আছে কি নেই—তা নিয়েও দৃষ্টিভ্রম তৈরি করার মতো স্থাপত্যকৌশলের বর্ণনা রয়েছে।
অর্থাৎ, বিশ্বকর্মা ও ময়দানব—দু’জনকেই পৌরাণিক সাহিত্যে অসাধারণ স্থপতি হিসেবে দেখা হলেও তাঁদের নির্মাণের কাহিনি এক নয়।
এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বকর্মা বনাম ময়—দুই দেবশিল্পীর কাহিনি
হিন্দু পৌরাণিক সাহিত্যে বিশ্বকর্মা দেবতাদের স্থপতি হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে ময় বা ময়দানব অসুরদের স্থপতি হিসেবে বহু কাহিনিতে উঠে আসে।
তাই লঙ্কা, দ্বারকা, দেবতাদের প্রাসাদ কিংবা দিব্যাস্ত্রের সঙ্গে বিশ্বকর্মার নাম যেমন যুক্ত, তেমনই ইন্দ্রপ্রস্থের মায়াসভার মতো কিছু স্থাপত্য ময়ের সঙ্গে যুক্ত।
এই দুই চরিত্রকে এক করে ফেললে পৌরাণিক কাহিনির গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হারিয়ে যায়।
কেন আজও বিশ্বকর্মা পুজো এত গুরুত্বপূর্ণ?
বিশ্বকর্মার এই পৌরাণিক পরিচয়ই আধুনিক বিশ্বে তাঁর পুজোর অর্থকে অন্য মাত্রা দেয়।
আজকের কারখানায় বিশাল CNC মেশিন, অটোমেশন, রোবটিক্স, ইঞ্জিনিয়ারিং সরঞ্জাম কিংবা কম্পিউটার-নিয়ন্ত্রিত উৎপাদন ব্যবস্থা—এসবের সঙ্গে প্রাচীন দেবশিল্পীর সরাসরি কোনও ঐতিহাসিক সম্পর্ক নেই।
কিন্তু প্রতীকী সম্পর্কটি স্পষ্ট।
প্রাচীন কাহিনিতে বিশ্বকর্মা ছিলেন নির্মাণ ও কারিগরি দক্ষতার প্রতীক। আধুনিক সমাজে মেশিন, প্রযুক্তি এবং শ্রম মানুষের সৃষ্টিশীলতার মাধ্যম। সেই কারণেই বিশ্বকর্মা পুজো আজও কারিগর, মেকানিক, ইঞ্জিনিয়ার, শিল্পকর্মী, চালক, নির্মাণকর্মী এবং বিভিন্ন পেশার মানুষের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
দেবতাদের জন্য যে শিল্পী নাকি প্রাসাদ, নগর, রথ ও অস্ত্র তৈরি করেছিলেন, আধুনিক কালে তাঁর পুজোতেই সম্মান জানানো হয় মানুষের নিজের কাজের সরঞ্জামকে।
সেখানেই বিশ্বকর্মা পুজোর সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক তাৎপর্য।
এক নজরে বিশ্বকর্মার সঙ্গে যুক্ত প্রধান নির্মাণ ও অস্ত্র
| নির্মাণ/অস্ত্র | বিশ্বকর্মার সঙ্গে সম্পর্ক |
|---|---|
| লঙ্কা | বাল্মীকি রামায়ণে বিশ্বকর্মার নির্মিত নগরী হিসেবে উল্লেখ |
| দ্বারকা | পুরাণীয় আখ্যানে বিশ্বকর্মার নির্মাণ |
| দেবতাদের প্রাসাদ | যম, বরুণ প্রমুখের প্রাসাদের সঙ্গে তাঁর নাম যুক্ত |
| পুষ্পক বিমান | পুরাণীয় কাহিনিতে বিশ্বকর্মার নির্মাণ |
| ইন্দ্রের বজ্র | দধীচির অস্থি দিয়ে নির্মাণের কাহিনি |
| সুদর্শন চক্র | একটি পুরাণীয় আখ্যানে সূর্যের তেজ থেকে নির্মিত |
| শিবের ত্রিশূল | একই পুরাণীয় আখ্যানে বিশ্বকর্মার নির্মাণ |
| বিজয় ধনুক | একটি পুরাণীয় সংকলনে ইন্দ্রের জন্য নির্মিত |
| শিবের দিব্য রথ | ত্রিপুর দহনের সময় নির্মাণের কাহিনি |
শেষ কথা
বিশ্বকর্মাকে শুধু “মেশিনের দেবতা” বললে তাঁর পৌরাণিক পরিচয়ের অনেকটাই বাদ পড়ে যায়। বৈদিক সাহিত্য থেকে পুরাণ, রামায়ণ ও মহাভারতের বিভিন্ন আখ্যান—সব মিলিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন নির্মাণ, কারিগরি দক্ষতা, স্থাপত্য ও সৃষ্টিশীলতার প্রতীক।
তাঁর নামে যুক্ত লঙ্কা, দ্বারকা, পুষ্পক বিমান, দেবতাদের প্রাসাদ কিংবা বজ্র ও অন্যান্য দিব্যাস্ত্রের কাহিনি বাস্তব ইতিহাসের দলিল নয়; এগুলি ভারতীয় ধর্মীয় ও পৌরাণিক ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু এই কাহিনিগুলির মধ্য দিয়ে একটি ধারণা স্পষ্ট—যে হাতে সৃষ্টি হয়, সেই হাতের দক্ষতাই বিশ্বকর্মা পুজোর মূল প্রতীক।



