নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে নাটকীয় মোড়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-এর শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করার পরই নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের ঘোষণা করলেন মমতা। শুক্রবার কালীঘাটের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, বৃহত্তর স্বার্থে এবং INDIA জোটকে শক্তিশালী করতে নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে সমর্থন করবে তাঁর শিবির।
মমতার কথায়, কংগ্রেস তাঁদের ‘সিস্টার পার্টি’। রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তাঁর কথাও হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক জোটগুলিকে সমর্থন করার নীতিতেই নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে নন্দীগ্রামে মমতা শিবিরের প্রার্থী ছিলেন সঞ্চিতা প্রধান দে। শুক্রবার তিনি আচমকাই মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। এই সিদ্ধান্তের আগে তাঁর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাতের খবর প্রকাশ্যে আসে। তবে সেই সাক্ষাতের বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে নানা দাবি রয়েছে এবং সাক্ষাতের কারণ সম্পর্কে সঞ্চিতা নিজে প্রকাশ্যে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
সঞ্চিতার মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর মমতা শিবিরের পক্ষ থেকে নতুন প্রার্থী দেওয়ার বদলে কংগ্রেসকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ফলে ৬ অক্টোবরের নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতা শিবির সরাসরি প্রার্থী দিচ্ছে না।
এই ঘটনাপ্রবাহের সূত্রপাত তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে। ১৭ সেপ্টেম্বর কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং দলের ‘Flowers and Grass’ প্রতীক ব্যবহারে দুই শিবিরের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। আসন্ন উপনির্বাচনের জন্য দুই পক্ষকেই আলাদা নাম ও প্রতীক বেছে নিতে বলা হয়।
শুক্রবার কমিশন মমতা শিবিরের জন্য ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক বরাদ্দ করে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির পায় ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘খাম’ প্রতীক। এই ব্যবস্থা আপাতত সংশ্লিষ্ট উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করেই কার্যকর হয়েছে; মূল দলীয় নাম ও প্রতীকের চূড়ান্ত মালিকানা নিয়ে কমিশনের প্রক্রিয়া আলাদা।
এই পরিস্থিতিতেই নন্দীগ্রামে মমতা শিবিরের প্রার্থী সরে দাঁড়ানো নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সঞ্চিতা কেন মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেন, সেই বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে বিস্তারিত কারণ প্রকাশ্যে আসেনি। তবে তাঁর প্রত্যাহারের পর মমতার কংগ্রেসকে সমর্থনের ঘোষণা দু’টি ঘটনাকে একই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এনে দিয়েছে।
কংগ্রেসের সঙ্গে মমতার রাজনৈতিক সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস থেকে পৃথক হয়ে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেছিলেন তিনি। পরে ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে সরকার গড়ে তৃণমূল। পরবর্তী সময়ে দুই দলের রাজনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে একাধিক টানাপড়েন দেখা যায়।
এবার সেই কংগ্রেসকেই নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে প্রকাশ্যে সমর্থনের ঘোষণা করলেন মমতা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এর লক্ষ্য বৃহত্তর বিরোধী ঐক্য এবং INDIA জোটকে শক্তিশালী করা।
নন্দীগ্রামের ভোটে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব কী হয়, তা অবশ্য ভোটের ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। আপাতত নিশ্চিত বিষয় হল, মমতা শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা সরে দাঁড়িয়েছেন এবং তাঁর জায়গায় কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছে মমতা শিবির। ৬ অক্টোবরের ভোটেই তার পরবর্তী রাজনৈতিক প্রতিফলন দেখা যাবে।



