বলিউড চলচ্চিত্র জগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রয়াত হলেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র প্রযোজক এবং সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (CBFC)-এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান পহলাজ নিহালানি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি লিভারজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন। তাঁর প্রয়াণে হিন্দি চলচ্চিত্র শিল্প হারাল এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বকে।
আশি ও নব্বইয়ের দশকের বলিউডে পহলাজ নিহালানি ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত নাম। বাণিজ্যিক সিনেমার জগতে তাঁর অবদান আজও স্মরণীয়। দর্শকপ্রিয় এবং ব্যবসাসফল একাধিক ছবির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাঁর নাম। প্রযোজক ও পরিবেশক হিসেবে তিনি বলিউডে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছিলেন।


তাঁর প্রযোজিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলির মধ্যে রয়েছে ‘আঁখে’, ‘আন্দাজ়’, ‘তালাশ’, ‘জুলি ২’ এবং ‘রঙ্গিলা রাজা’। বিভিন্ন সময়ে মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি।
চলচ্চিত্র প্রযোজনার পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রির সংগঠনিক ক্ষেত্রেও ছিল তাঁর সক্রিয় ভূমিকা। প্রায় তিন দশক ধরে ‘অ্যাসোসিয়েশন অব পিকচার্স অ্যান্ড টিভি প্রোগ্রাম প্রডিউসার্স’-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চলচ্চিত্র শিল্পের বিভিন্ন নীতি ও প্রশাসনিক বিষয়ে তাঁর মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হতো।
তবে পহলাজ নিহালানির নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয় ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে, যখন তিনি CBFC-র চেয়ারম্যান ছিলেন। সেই সময়ে চলচ্চিত্রে সেন্সরশিপ নিয়ে তাঁর একাধিক সিদ্ধান্ত জাতীয় স্তরে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।


সিনেমার বিভিন্ন দৃশ্য, সংলাপ এবং বিষয়বস্তু নিয়ে তাঁর কঠোর অবস্থান বারবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। ভারতীয় সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ রক্ষার যুক্তিতে তিনি বহু ছবিতে কাটছাঁটের নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা চলচ্চিত্র নির্মাতাদের একাংশের সমালোচনার মুখেও পড়েছিল।
তাঁর সমর্থকদের মতে, তিনি ভারতীয় সিনেমার সামাজিক দায়বদ্ধতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছিলেন। অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি ছিল, তাঁর নীতির ফলে সৃজনশীল স্বাধীনতা অনেক সময় বাধার মুখে পড়েছে। ফলে তিনি একদিকে যেমন প্রভাবশালী প্রশাসক, তেমনই বিতর্কিত সেন্সর প্রধান হিসেবেও পরিচিতি পান।
পহলাজ নিহালানির মৃত্যুতে বলিউডের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটল। চলচ্চিত্র প্রযোজক, সংগঠক এবং সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যান— তিনটি ভূমিকাতেই তিনি নিজের ছাপ রেখে গিয়েছেন। তাঁর অবদান এবং বিতর্ক— দুই-ই ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



