অপেক্ষার অবসান। অবশেষে ভারতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করল দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। জুনের শুরুতেই স্বস্তির খবর দিল আবহাওয়া দপ্তর। কেরলে বর্ষার আগমনের সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়েছে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি। একাধিক জেলায় জারি হয়েছে সতর্কতা। ফলে তীব্র গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়ার মধ্যে থাকা কোটি কোটি মানুষের জন্য এটি বড় স্বস্তির বার্তা।
মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহেই আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বর্ষার আগমন হয়েছিল। তারপর থেকেই দেশের মূল ভূখণ্ডে বর্ষা প্রবেশের অপেক্ষায় ছিলেন আবহাওয়াবিদ থেকে সাধারণ মানুষ। অবশেষে ৪ জুন কেরল উপকূলে পৌঁছেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু।
যদিও সাধারণত ১ জুনের মধ্যে কেরলে বর্ষা প্রবেশ করে, চলতি বছরে তা তিন দিন দেরিতে এল। তবে প্রবেশের পর থেকেই কেরলের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির দাপট বেড়েছে। রাতভর বৃষ্টির জেরে এর্নাকুলাম, কোট্টায়াম-সহ একাধিক এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ভারতীয় মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহ জুড়েও কেরলের বিভিন্ন জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি চলতে পারে। প্রশাসনকে আগাম সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সম্ভাব্য জলজমা ও ভূমিধসপ্রবণ এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে বর্ষার অগ্রগতির জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু তেলেঙ্গানা, গোয়া, মহারাষ্ট্র এবং অন্ধ্রপ্রদেশের একাংশে পৌঁছে যেতে পারে।
শুধু তাই নয়, আগামী দু’ থেকে তিন দিনের মধ্যে কর্ণাটক, তামিলনাড়ুর বাকি অংশ, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু এলাকায়ও বর্ষার প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে দক্ষিণ ও পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
তামিলনাড়ুতেও ইতিমধ্যেই ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি হয়েছে। বিশেষ করে কন্যাকুমারী জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্ষার এই অগ্রগতি কৃষিক্ষেত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো বৃষ্টি শুরু হলে চাষের কাজেও গতি আসবে এবং জলাধারগুলির জলস্তরও বাড়বে।
দেশের মূল ভূখণ্ডে বর্ষার আনুষ্ঠানিক প্রবেশের মাধ্যমে এবার শুরু হল বৃষ্টির মরশুমের নতুন অধ্যায়। আগামী কয়েক সপ্তাহে মৌসুমী বায়ুর গতিপথ এবং বিভিন্ন রাজ্যে বৃষ্টির পরিমাণের উপরই নির্ভর করবে এবারের বর্ষার সামগ্রিক চিত্র।



