মার্কিন ফেডারেল রিজ়ার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির পর বৃহস্পতিবার ভারতীয় শেয়ার বাজারে শুরু থেকেই ছিল চাপ ও ওঠানামা। আগের দিনের ক্লোজিংয়ের তুলনায় দুর্বলভাবে শুরু হলেও বাজারে দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা দেখা যায়। তবে দিনের শুরুতে Sensex ও Nifty 50-এর গতিপথ ছিল যথেষ্ট অস্থির। Fed-এর সিদ্ধান্তের পাশাপাশি তেলের দাম, বিদেশি বিনিয়োগ এবং বিশ্ববাজারের সংকেতেও নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।
বুধবারের লেনদেনে অবশ্য ভারতীয় বাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। Sensex প্রায় ৩৩৩ পয়েন্ট বেড়ে ৭৪,৩৩৬.৪৫-এ বন্ধ হয়। Nifty 50-ও ৯৯ পয়েন্টের বেশি উঠে ২৩,২১৭.৬০-এ দিনের লেনদেন শেষ করে। ফলে টানা দুই দিনের পতনের পরে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিল বাজার।
এর পরেই আসে মার্কিন ফেডের সিদ্ধান্ত। বুধবার মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদ বাড়িয়ে দেয়। ২০২৩ সালের পর এই প্রথম Fed সুদের হার বাড়াল। নতুন সুদের হার দাঁড়িয়েছে ৩.৭৫ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে। একইসঙ্গে চলতি বছরে আরও একটি সুদবৃদ্ধির সম্ভাবনার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের প্রভাবেই বৃহস্পতিবার সকালে ভারতীয় বাজারের উপর চাপ তৈরি হয়। প্রি-মার্কেট পর্যায়ে GIFT Nifty-তে পতনের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল এবং একাধিক বাজার-পর্যবেক্ষণে Sensex ও Nifty 50-এর দুর্বল সূচনার কথা বলা হয়।
তবে বাজারের চাপ সামলানোর ক্ষেত্রে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বুধবার বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা প্রায় ২,০০০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করলেও দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৩,৯০০ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছিলেন। এই দেশীয় কেনাকাটা বাজারে কিছুটা সহায়তা দিয়েছে।
অন্যদিকে, IT সেক্টরের উপর আলাদা করে নজর রয়েছে। Fed-এর সুদবৃদ্ধি এবং মার্কিন অর্থনীতির ভবিষ্যৎ চাহিদা নিয়ে উদ্বেগের প্রভাব ভারতীয় IT সংস্থাগুলির শেয়ারে পড়তে পারে বলে বাজারে আলোচনা রয়েছে। Reuters-এর বাজার আপডেট অনুযায়ী, দিনের শুরুতে IT সূচকও চাপের মধ্যে ছিল।
বাজারের জন্য আর একটি বড় বিষয় হল অপরিশোধিত তেলের দাম। Brent crude এখনও প্রতি ব্যারেলে প্রায় ১০৫-১০৬ ডলারের আশপাশে রয়েছে। ভারতের মতো তেল আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে দীর্ঘ সময় ধরে বেশি crude oil price থাকলে মুদ্রাস্ফীতি, আমদানি খরচ এবং কর্পোরেট মুনাফার উপর তার প্রভাব পড়তে পারে।
এর পাশাপাশি বৃহস্পতিবার থেকে National Stock Exchange-এর বহু প্রতীক্ষিত IPO-ও বাজারে খুলেছে। ফলে প্রাইমারি মার্কেটে অর্থের প্রবাহ এবং সেকেন্ডারি মার্কেটে তার সম্ভাব্য প্রভাবও বিনিয়োগকারীদের নজরে রয়েছে।
সব মিলিয়ে, ১৭ সেপ্টেম্বরের ভারতীয় শেয়ার বাজারে Fed-এর সিদ্ধান্তের পাশাপাশি crude oil, বিদেশি বিনিয়োগ, টাকা-ডলারের বিনিময় হার এবং IPO-র গতিবিধি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দিনের লেনদেনে Sensex ও Nifty 50 কোন দিকে স্থায়ীভাবে এগোয়, তার জন্য পরবর্তী কয়েক ঘণ্টার বাজারচিত্রই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।



