এনসিপিআই (NCPI)-এর সাংসদদের ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা আরও তীব্র হল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)-এর সঙ্গে বৈঠকের একদিনের মধ্যেই এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)-র আমন্ত্রণ পেলেন দলের একাধিক সাংসদ। শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রী আবাসে প্রাতরাশ বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য ডাকা হয়েছে নতুন এনডিএ (NDA) শরিক দলগুলির সাংসদদের। এই বৈঠকে এনসিপিআই প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ঘিরেই এখন রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, সম্প্রতি এনডিএ-তে যোগ দেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদদের সঙ্গে মতবিনিময়ের উদ্দেশ্যেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। শিবসেনা (Shiv Sena), এনসিপি (NCP)-র পাশাপাশি এনসিপিআই-এর সাংসদদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে আবু তাহের (Abu Taher) এবং খলিলুর রহমান (Khalilur Rahman) বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। কারণ, একই দিনে কলকাতায় (Kolkata) মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-র সঙ্গে তাঁদের বৈঠকের সূচি রয়েছে।
অন্যদিকে, এনসিপিআই সাংসদ ইউসুফ পাঠান (Yusuf Pathan) ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ রক্ষা করবেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, তাঁরা এখনও এনসিপিআই-এর সঙ্গেই রয়েছেন এবং দলের সাংসদরা ঐক্যবদ্ধ। পাশাপাশি তাঁর মন্তব্য, দেশের স্বার্থে যা ভালো হবে, সেই সিদ্ধান্তই তাঁরা সমর্থন করবেন। দেশের প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণ জানালে সেই বৈঠকে যোগ দেওয়া উচিত বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেন এনসিপিআই-এর তিন মুসলিম সাংসদ— আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠান। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় (Satabdi Roy)-ও। বৈঠক শেষে শতাব্দী জানান, সংশ্লিষ্ট সাংসদরা মূলত নিজেদের লোকসভা কেন্দ্রের উন্নয়ন এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনিও পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক উন্নয়ন ও নিজের কেন্দ্রের একাধিক বিষয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেছেন বলে জানান।
প্রধানমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে সব এনসিপিআই সাংসদ উপস্থিত থাকতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে শতাব্দী রায় বলেন, অনেক সাংসদ ইতিমধ্যেই নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গিয়েছেন। আবার কয়েকজনের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিও রয়েছে। ফলে অল্প সময়ের নোটিসে সবার পক্ষে দিল্লিতে পৌঁছানো সম্ভব নাও হতে পারে।
এদিকে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে, এনসিপিআই-এর একাধিক সাংসদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি। বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে, দলের একাংশকে বিজেপির (Bharatiya Janata Party) সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই সম্ভাবনা নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি সংশ্লিষ্ট নেতারা।
আগামী শুক্রবারের বৈঠকের পর এই রাজনৈতিক জল্পনায় নতুন কোনও দিক উন্মোচিত হয় কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।



