বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের আনন্দের মধ্যেই ব্রাজিল শিবিরে এল আরও বড় স্বস্তির খবর। দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার জন্য প্রস্তুত নেইমার জুনিয়র। হাইতির বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের জয়ের পর ব্রাজিল কোচ কার্লো আন্সেলোত্তি জানিয়ে দিয়েছেন, গ্রুপ পর্বের পরবর্তী ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে দলে পাওয়া যাবে তারকা ফুটবলারকে। ফলে বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আরও শক্তিশালী হতে চলেছে সেলেকাওদের আক্রমণভাগ।
হাইতির বিরুদ্ধে ম্যাচের পর সাংবাদিক বৈঠকে আন্সেলোত্তি বলেন, নেইমার এখন সুস্থতার শেষ পর্যায়ে রয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, রবিবার আলাদা করে অনুশীলন করবেন নেইমার এবং সোমবার থেকে মূল দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। সেই কারণেই স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচে তাঁকে মাঠে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও প্রথম একাদশে তিনি থাকবেন কি না, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলেননি ব্রাজিল কোচ।
প্রায় এক মাস আগে শেষবার প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেছিলেন নেইমার। স্যান্টোসের হয়ে খেলতে নেমে কাফ মাসলে চোট পাওয়ার পর তাঁর বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়েই সংশয় তৈরি হয়েছিল। অনেকেই মনে করেছিলেন, জাতীয় দলের চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা পাওয়াও কঠিন হবে তাঁর পক্ষে। কিন্তু ধীরে ধীরে ফিটনেস ফিরে পেয়ে অবশেষে প্রত্যাবর্তনের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছেন ব্রাজিলের অন্যতম সেরা তারকা।
বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে মাঠে নামতে পারেননি নেইমার। মরক্কোর বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে তাঁকে ডাগআউটে দেখা গেলেও হাইতির বিরুদ্ধে ম্যাচ চলাকালীন তিনি নিউ জার্সিতে থেকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই কারণেই মাঠে দেখা যায়নি তাঁকে।
নেইমারের প্রত্যাবর্তনের খবর ব্রাজিল সমর্থকদের উচ্ছ্বসিত করলেও নতুন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছেন রাফিনহা। হাইতির বিরুদ্ধে ম্যাচ চলাকালীন চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন বার্সেলোনা তারকা। আন্সেলোত্তি জানিয়েছেন, বিস্তারিত মেডিক্যাল পরীক্ষার আগে তাঁর চোটের গভীরতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। ফলে স্কটল্যান্ড ম্যাচে রাফিনহাকে পাওয়া যাবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এদিকে হাইতির বিরুদ্ধে ব্রাজিলের জয়ের নায়ক ছিলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। একটি গোল করার পাশাপাশি দুটি গোলের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। মরক্কোর বিরুদ্ধে ড্রয়ের পর এই জয় ব্রাজিলকে গ্রুপে শক্ত অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
তবে ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রাজিলের আক্রমণভাগ এখনও অনেকটাই ভিনিসিয়াস-নির্ভর হয়ে রয়েছে। লুকাস পাকেতার পারফরম্যান্স নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সেই জায়গায় নেইমারের প্রত্যাবর্তন শুধু অভিজ্ঞতাই নয়, সৃজনশীলতার নতুন মাত্রাও যোগ করবে। পাশাপাশি ভিনিসিয়াসের উপর থেকে অতিরিক্ত চাপও অনেকটা কমবে।
আগামী ২৫ জুন মায়ামিতে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে গ্রুপ ‘সি’-র শেষ ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। সেই ম্যাচে নেইমার মাঠে নামলে বিশ্বকাপের অন্যতম বড় আকর্ষণ ফিরে আসবে। আর সেটাই এখন ব্রাজিল সমর্থকদের কাছে সবচেয়ে বড় আশার খবর।



