নিউ টাউনে বিশ্বের বৃহত্তম দুর্গা অঙ্গনের ভিত্তিপ্রস্তর, জানুয়ারিতেই মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাসের ঘোষণা মমতার

নিউ টাউনে দুর্গা অঙ্গনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে জানুয়ারিতে মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাসের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নিউ টাউনের মাটি থেকে আরও এক ‘ধর্ম–পর্যটন অধ্যায়’-এর সূচনা। সোমবার দুর্গা অঙ্গনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেই বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানালেন, আগামী জানুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেই হবে মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস। একই সঙ্গে স্পষ্ট বার্তা— ধর্ম হবে সম্প্রীতির, বিভাজনের নয়।

নিউ টাউনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান কার্যত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বক্তব্যের পাশাপাশি ভবিষ্যতের এক বৃহৎ ধর্মীয়–পর্যটন মানচিত্রও তুলে ধরল। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “এটা শুধু একটি মন্দির নয়, এটা সংস্কৃতি, কর্মসংস্থান আর পর্যটনের কেন্দ্র।”

মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, নিউ টাউনে যে দুর্গা অঙ্গন গড়ে উঠছে, তা হবে বিশ্বের বৃহত্তম। প্রায় দু’লক্ষ বর্গফুট এলাকায় নির্মিত এই দুর্গা অঙ্গনে একসঙ্গে এক লক্ষ ভক্তের বসার ব্যবস্থা থাকবে। সবুজে ঘেরা খোলা চত্বর, চারপাশে ২০ ফুট চওড়া ঘোড়ার পথ, ১,০০৮টি স্তম্ভ, ৫৪ মিটার উচ্চ গর্ভগৃহ, সিংহদুয়ার ও একাধিক মণ্ডপ— সব মিলিয়ে এক অনন্য স্থাপত্যের আভাস দেন তিনি। প্রাকৃতিক আলো ও বাতাসের সর্বোচ্চ ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

দুর্গা অঙ্গনের নির্মাণে যুক্ত থাকছেন দিঘার জগন্নাথ ধাম নির্মাণকারী সংস্থাই। ট্রাস্ট পরিচালনার দায়িত্ব থাকবে মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে। মমতার বক্তব্য, দুর্গা অঙ্গনের ফলে স্থানীয়ভাবে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে— দোকান, পরিষেবা ও পরিকাঠামো ঘিরে বাড়বে কর্মশ্রম।

রাজ্যে ধর্মীয় পর্যটন উন্নয়নে সরকারের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। কালীঘাট মন্দিরকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে ১৩০ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা জানান তিনি। পাশাপাশি কপিলমুনির আশ্রম, গঙ্গাসাগর মেলা এবং গঙ্গাসাগরে প্রস্তাবিত সেতুর প্রসঙ্গও টানেন। অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন কেন্দ্রের কাছে আবেদন জানালেও সাড়া মেলেনি, শেষ পর্যন্ত রাজ্য সরকারই সেতু নির্মাণে উদ্যোগী হয়েছে। ৫ জানুয়ারি শিলান্যাস হলেই কাজ শুরু হবে, জানান তিনি।

ভাষণেই উঠে আসে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) নিয়ে ক্ষোভ। মমতার অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় রাজ্যের মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাঁর বক্তব্য, নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে গিয়ে বাংলা ভাষাভাষীদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দেওয়া হচ্ছে। কড়া ভাষায় তিনি বলেন, “সহ্য করছি ঠিকই, কিন্তু সহ্যেরও একটা সীমা আছে।”

ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, বাংলা সব ধর্মের মিলনভূমি। তাঁর কথায়, “সব ধর্মকে ভালোবাসতে হবে। গুরুদ্বারে গেলে মাথায় চাদর দিই, রোজায় গেলে প্রশ্ন ওঠে কেন? এটাই বাংলা।”

সবশেষে আরও এক বড় ঘোষণা— মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে। জমি দেখা হয়ে গেছে, দিনক্ষণও ঠিক করা আছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। দুর্গা অঙ্গনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে তাই রাজ্যের ধর্মীয়–পর্যটন মানচিত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর