হাওড়ার শ্যামপুরে স্বাস্থ্য পরিষেবা উন্নত করতে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ১০০ শয্যার হাসপাতাল চালুর আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার দশমীর রাতে শ্যামপুরের বেলপুকুর কলেজ মাঠে পুজো মণ্ডপ পরিদর্শনে এসে তিনি জানান, বর্তমানে এলাকার ১৪ শয্যার প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ১০০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি ও এক্স-রে পরিষেবা চালুর কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি, ভোটের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বোয়ালিয়ায় পাকা ব্রিজ তৈরির আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শ্যামপুরের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় স্থানীয় বাসিন্দাদের চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে হাসপাতাল চালুর নির্দিষ্ট দিন, নির্মাণকাজের বর্তমান অগ্রগতি বা পরিষেবার বিস্তারিত পরিকল্পনা সম্পর্কে তাঁর বক্তব্যে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।
১৪ শয্যার স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ১০০ শয্যার হাসপাতাল
বর্তমানে শ্যামপুরে ১৪ শয্যার একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সেটিকে ১০০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হবে। হাসপাতালটিতে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি এবং এক্স-রে পরিষেবাও চালুর আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
এই পরিষেবাগুলি চালু হলে এলাকার রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ বাড়তে পারে। তবে হাসপাতালের চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, শয্যা বণ্টন, জরুরি বিভাগ এবং অন্যান্য পরিষেবা কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি। ফলে ডিসেম্বরের মধ্যে হাসপাতাল চালুর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতির দিকে নজর থাকবে।
বোয়ালিয়ায় পাকা ব্রিজ তৈরির আশ্বাস
শ্যামপুর সফরে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি মেনে বোয়ালিয়ায় খুব শিগগির পাকা ব্রিজ তৈরি করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। তবে সেতুর নির্মাণকাজ কবে শুরু হবে, কতদিনে শেষ হবে কিংবা প্রকল্পের ব্যয় কত—এই বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা বা বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
পাকা ব্রিজ তৈরি হলে স্থানীয় যাতায়াতের ক্ষেত্রে সুবিধা হতে পারে। তবে প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি এবং নির্মাণের নির্দিষ্ট সময়সূচি সম্পর্কে সরকারি বিস্তারিত ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি আশ্বাসের পর্যায়েই থাকছে।
অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
এদিন অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তাদের সংখ্যা নিয়েও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, রাজ্যে প্রায় ১ কোটি ৬৬ লক্ষ মহিলা এই প্রকল্পের টাকা পেয়েছেন। রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় গড়ে প্রায় ৫৭ হাজার উপভোক্তা এই সুবিধা পেয়েছেন বলে জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, শ্যামপুর বিধানসভা এলাকায় প্রায় ১ লক্ষ মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়েছেন। এই সংখ্যার ভিত্তিতে শ্যামপুরকে প্রকল্পের উপভোক্তা সংখ্যার নিরিখে প্রথম স্থানে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এই পরিসংখ্যানের বিস্তারিত সরকারি নথি বা স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি।
আগামী বছরের ৮ মে-র মধ্যে এক লক্ষ চাকরির আশ্বাস
রাজ্যে কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী বছরের ৮ মে-র মধ্যে এক লক্ষ যুবক-যুবতীর চাকরির ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন তিনি। নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হবে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।
তবে কোন কোন দফতরে নিয়োগ হবে, কতগুলি পদে নিয়োগ করা হবে, নিয়োগের যোগ্যতা কী হবে এবং আবেদন প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে—এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে চাকরিপ্রার্থীদের পরবর্তী সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও নিয়োগ সংক্রান্ত ঘোষণার দিকে নজর রাখতে হবে।
রাজনৈতিক বক্তব্যে তৃণমূলকে নিশানা
এদিনের অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রসঙ্গও উঠে আসে। বিগত তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যাঁরা মা কালীর মূর্তিকে প্রিজন ভ্যানে তুলেছিলেন, তাঁদের এখন প্রিজন ভ্যানে উঠতে হচ্ছে। দুর্গা প্রতিমা ভাঙার প্রসঙ্গ টেনেও তিনি বিরোধী শিবিরকে আক্রমণ করেন।
এগুলি মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক বক্তব্য। সংশ্লিষ্ট ঘটনা, অভিযোগ বা তার আইনি অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এই বক্তব্যে দেওয়া হয়নি।
শ্যামপুরে হাসপাতাল, বোয়ালিয়ায় পাকা ব্রিজ এবং রাজ্যে কর্মসংস্থান—এদিনের সফরে একাধিক বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন নজর থাকবে ঘোষিত সময়সীমার মধ্যে হাসপাতালের পরিষেবা চালু হয় কি না, সেতু নির্মাণের কাজ কতদূর এগোয় এবং চাকরির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কী পদক্ষেপ করা হয়, তার দিকে।



