লোকভবনে বড়সড় নামবদল! পরমহংস থেকে ভাগীরথী, নতুন পরিচয় পেল রাজভবনের একাধিক অংশ

লোকভবনের কক্ষ, হল, প্রবেশদ্বার, উদ্যান ও রাস্তার নাম বদলে দেওয়া হল। বিবেকানন্দ, নেতাজি, বিদ্যাসাগর, শ্যামাপ্রসাদ-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের নামে নতুন নামকরণ।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

লোকভবনের নামবদল ঘিরে ফের চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। রাজভবনের নাম পরিবর্তনের কয়েক মাস পর এবার তার বিভিন্ন কক্ষ, হল, প্রবেশদ্বার, উদ্যান ও রাস্তার নতুন নামকরণে অনুমোদন দিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবি। ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব, সমাজসংস্কারক এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নামে সাজানো হয়েছে নতুন নামের তালিকা।

রাজভবনের নাম বদলে ‘লোকভবন’ হওয়ার প্রায় সাত মাস পর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে। সম্প্রতি জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তি এবং পরবর্তী সংশোধনীতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অংশের নতুন নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, লোকভবনের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রবেশদ্বারের নাম ‘ডা. বিধান রায় দ্বার’ থেকে পরিবর্তন করে ‘ডা. বিধানচন্দ্র রায় দ্বার’ করা হয়েছে। এটি ছিল সর্বশেষ সংশোধনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত।

লোকভবনের বিভিন্ন কক্ষেরও নতুন নামকরণ করা হয়েছে। সেকেন্ড ক্লাস স্যুইটের নাম হয়েছে ‘শ্রীঅরবিন্দ কক্ষ’। উত্তর মার্বেল হল এখন ‘পরমহংস কক্ষ’, মধ্য মার্বেল হল ‘বিবেকানন্দ কক্ষ’ এবং দক্ষিণ মার্বেল হল ‘মা সারদা কক্ষ’ নামে পরিচিত হবে।

একইভাবে ‘প্রিন্স অব ওয়েলস স্যুইট’-এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘গুরুদেব কক্ষ’। থ্রোন রুমের নতুন নাম হয়েছে ‘বন্দেমাতরম সভাঘর’। ইয়েলো ড্রয়িং রুম এখন ‘ভাগীরথী কক্ষ’ এবং ব্লু ড্রয়িং রুম ‘মহানন্দা কক্ষ’ নামে পরিচিত হবে।

এছাড়া ব্রাউন ডাইনিং হলের নাম হয়েছে ‘গঙ্গা সভাঘর’, কাউন্সিল চেম্বার হয়েছে ‘সংবিধান কক্ষ’, ডাফরিন স্যুইটের নাম ‘হরিচাঁদ ঠাকুর কক্ষ’ এবং অ্যান্ডারসন স্যুইটের নাম ‘চৈতন্য কক্ষ’।

বলরুমের সেন্ট্রাল হলের নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘চিত্তরঞ্জন দাশ হল’। পাশাপাশি সাউথ হলের নাম হয়েছে ‘জগদীশচন্দ্র বসু হল’ এবং নর্থ হলের নাম ‘তেনজিং নোরগে হল’।

শুধু কক্ষ বা হল নয়, লোকভবনের গুরুত্বপূর্ণ চত্বর ও প্রশাসনিক অংশগুলিরও নতুন নাম নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্র্যান্ড স্টেয়ার্স এবং নর্থ পোর্টিকো মিলিয়ে এখন ‘নেতাজি সুভাষ প্রাঙ্গণ’। লাইব্রেরির নতুন নাম ‘বিদ্যাসাগর গ্রন্থাগার’, রাজ্যপালের অফিস ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি কক্ষ’ এবং রাজ্যপালের বাসভবনের নাম হয়েছে ‘শান্তিনিকেতন’।

উদ্যানগুলির নামেও এসেছে পরিবর্তন। শহিদ উদ্যান, একতা উদ্যান, সুন্দরবন উদ্যান, অমৃত উদ্যান এবং শান্তিবন—এই নতুন নামগুলো এখন লোকভবনের বিভিন্ন লনের পরিচয় বহন করবে।

প্রবেশদ্বারগুলির নামও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের নামে রাখা হয়েছে। কবিগুরু দ্বার, ঋষি বঙ্কিম দ্বার, সিধো-কানহো দ্বার, ক্ষুদিরাম বসু দ্বার এবং রাজা রামমোহন রায় দ্বার তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

এছাড়া সাউথ ড্রাইভওয়ের নতুন নাম হয়েছে ‘কর্তব্যপথ’ এবং নর্থ ড্রাইভওয়ের নাম ‘শক্তিপথ’। দুই জলাশয় এলাকার নামকরণ করা হয়েছে ‘পদ্ম সরোবর’ এবং ‘অমৃত সরোবর’।

রাজ্যপালের অনুমোদনের পর এই নামবদল কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যপালের সচিব ড. সৌমিত্র মোহন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন এবং বিভিন্ন স্থানে নতুন ফলক ও সাইনবোর্ড বসানোর কাজও শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর