‘টাকা বেশি লাগলে দেব, মোবাইল ফোন নয়’, একাদশ-দ্বাদশের পড়ুয়াদের নিয়ে রাইজিং মঞ্চে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

রাইজিং ভারত সামিটের কলকাতা পর্বে একাদশ-দ্বাদশের পড়ুয়াদের মোবাইল ফোন না দেওয়ার পক্ষে সওয়াল শুভেন্দু অধিকারীর। পড়াশোনার প্রয়োজনীয় অন্য সরঞ্জাম দেওয়ার বার্তা তাঁর।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার কলকাতায় রাইজিং ভারত সামিটের ইস্ট এডিশনের মঞ্চ থেকে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের মোবাইল ফোন দেওয়ার পরিবর্তে পড়াশোনার প্রয়োজনীয় অন্য আধুনিক সরঞ্জাম দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “টাকা বেশি লাগলে দেব, কিন্তু মোবাইল ফোন দেব না।”

শুভেন্দুর বক্তব্য, পড়ুয়াদের যতটা সম্ভব মোবাইল ফোন থেকে দূরে রাখা প্রয়োজন। স্কুলপড়ুয়াদের হাতে মোবাইল তুলে দেওয়ার পরিবর্তে শিক্ষার পরিবেশকে আরও কার্যকর করার দিকে নজর দেওয়া উচিত বলে মত তাঁর। একইসঙ্গে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকেও পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

রাইজিং ভারত সামিটের মঞ্চে শুভেন্দু বলেন, “ছাত্রছাত্রীদের মোবাইল ফোন থেকে দূরে রাখুন।” তাঁর দাবি, আগের সরকারের আমলে স্কুল পড়ুয়াদের মোবাইল দেওয়া হয়েছিল। সেই নীতির বদলে পড়াশোনার কাজে প্রয়োজনীয় অন্যান্য সরঞ্জাম দেওয়ার পক্ষে তিনি।

শুধু পড়াশোনার মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের আটকে না রেখে তাঁদের সামগ্রিক বিকাশের উপরও জোর দেন শুভেন্দু। স্কুলে ব্রতচারী এবং এনসিসির মতো কার্যক্রম ফের চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, পড়ুয়াদের মোবাইল নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি শৃঙ্খলা, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং শারীরিক-মানসিক বিকাশের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

এদিন নেশামুক্ত সমাজ গড়ার বার্তাও দেন শুভেন্দু। তাঁর মতে, তরুণ প্রজন্মকে নেশার কবল থেকে দূরে রাখতে স্কুল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। “নেশামুক্ত ভারত গড়তে হবে”—রাইজিং ভারত সামিটের মঞ্চ থেকে এমনই বার্তা দেন তিনি।

আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, আগে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ মর্যাদা পেত। বর্তমানে সেটিকে উচ্চ শিক্ষা দফতরের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানান তিনি। একইসঙ্গে স্কলারশিপ নিয়েও সরকারের নীতির পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন।

শুভেন্দুর বক্তব্য, সরকার তুষ্টিকরণের রাজনীতি বন্ধ করছে। তাঁর অভিযোগ, আগে নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রীরা স্কলারশিপের সুবিধা পেতেন। সেই ব্যবস্থা বন্ধ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

শিক্ষা ও ছাত্রছাত্রীদের প্রসঙ্গের পাশাপাশি এদিন বাংলায় বিনিয়োগ নিয়েও শিল্পপতিদের উদ্দেশে বার্তা দেন শুভেন্দু। রাজ্যে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরে শিল্পমহলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে নতুন সরকারের আমলে গত চার মাসে শিল্পপতিদের অভিজ্ঞতা কেমন, তা সরাসরি তাঁদের কাছ থেকেই জানতে চান শুভেন্দু।

সব মিলিয়ে রাইজিং ভারত সামিটের কলকাতা পর্বে শিক্ষা, মোবাইল ব্যবহার, নেশামুক্ত সমাজ এবং বিনিয়োগ—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরলেন শুভেন্দু অধিকারী। বিশেষ করে একাদশ-দ্বাদশের পড়ুয়াদের মোবাইল দেওয়ার বদলে বিকল্প শিক্ষাসামগ্রী দেওয়ার বার্তাই এদিনের বক্তব্যে বিশেষ নজর কেড়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন