নজরবন্দি ব্যুরো: আইআইটি কানপুর (IIT Kanpur) এবং ইসকনের (ISKCON) মধ্যে ছাত্রদের মানসিক সুস্থতা ও ব্যক্তিগত উন্নয়ন নিয়ে দু’বছরের চুক্তি ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পড়ুয়াদের জন্য স্বেচ্ছামূলক কোর্স চালুর কথা জানিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছিল আইআইটি কানপুর। সমালোচনা শুরু হতেই সেই পোস্ট সরিয়ে নেওয়া হলেও প্রতিষ্ঠানের পরিচালক স্পষ্ট করেছেন, ইসকনের সঙ্গে করা মউ বাতিল হচ্ছে না।
ঠিক কী রয়েছে এই চুক্তিতে? আইআইটি কানপুর ও ইসকনের সহযোগিতার মূল লক্ষ্য পড়ুয়াদের ‘well-being’ বা সার্বিক সুস্থতা, মূল্যভিত্তিক শিক্ষা, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং নৈতিক নেতৃত্বের মতো বিষয়। চুক্তিটির মেয়াদ দু’বছর এবং এতে অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ স্বেচ্ছামূলক বলে জানানো হয়েছিল।
ইসকনের মাধ্যমে যে কোর্সগুলি চালানোর কথা, তার মধ্যে রয়েছে সেল্ফ ম্যানেজমেন্ট, ওয়েলনেস, পার্সোনাল ডেভেলপমেন্ট, স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট এবং আত্মমর্যাদা বা self-esteem বাড়ানোর মতো বিষয়। প্রতিটি কোর্সে আটটি করে এক ঘণ্টার সেশন থাকার কথা। কোর্স সম্পূর্ণ করলে শংসাপত্র দেওয়ার ব্যবস্থার কথাও ঘোষণা করা হয়েছিল।
এই ঘোষণাই বিতর্কের সূত্রপাত করে। সমাজমাধ্যমে পড়ুয়া, প্রাক্তনী-সহ একাংশ প্রশ্ন তোলেন, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রকল্যাণের মতো বিষয়ে একটি ধর্মীয় সংগঠনের ভূমিকা কতটা গ্রহণযোগ্য। সমালোচনার কেন্দ্রে ছিল শিক্ষা ও ধর্মীয় সংগঠনের এই সহযোগিতার প্রকৃতি।
সমালোচনা বাড়ার পর আইআইটি কানপুরের পক্ষ থেকে প্রকাশিত ঘোষণাটি সমাজমাধ্যম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে পোস্ট সরানো হলেও চুক্তি প্রত্যাহারের কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। বরং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক মণীন্দ্র অগ্রবাল (Manindra Agrawal) জানিয়েছেন, ছাত্রদের সমস্যার সময়ে সহায়তা করতে আগ্রহী কোনও বাইরের সংস্থা এগিয়ে এলে প্রতিষ্ঠান সেই সাহায্য গ্রহণ করতে প্রস্তুত।
অগ্রবালের বক্তব্য অনুযায়ী, এই মউটি ছাত্রদের পক্ষের উদ্যোগেই করা হয়েছিল। তাঁর যুক্তি, ক্যাম্পাসে সমস্যায় থাকা পড়ুয়াদের সাহায্যের জন্য আইআইটি কানপুর ইতিমধ্যেই একাধিক কর্মসূচি চালায়। ফলে ছাত্রদের কল্যাণে কোনও সংস্থা সাহায্য করতে চাইলে, তার কাজের রেকর্ড সন্তোষজনক হলে সেই সহযোগিতার দরজা খোলা রাখা হবে।
ইসকনের সঙ্গে এই সহযোগিতা এমন একটি সময়ে সামনে এসেছে, যখন আইআইটি ক্যাম্পাসগুলিতে পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সার্বিক সুস্থতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক আইআইটি দিল্লির এক ছাত্রের মৃত্যুর পর এই বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই ছাত্রকল্যাণে বাইরের সংস্থার ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।
তবে বিতর্কের মধ্যেও আইআইটি কানপুরের অবস্থান আপাতত স্পষ্ট—সমাজমাধ্যমের পোস্ট সরানো হয়েছে, কিন্তু ইসকনের সঙ্গে দু’বছরের মউ বাতিল হচ্ছে না। ফলে আগামী দিনে এই সহযোগিতার অধীনে কী ধরনের কর্মসূচি বাস্তবে চালু হয় এবং তা নিয়ে পড়ুয়া ও শিক্ষক মহলে কী প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।



