দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের পাঠ্যক্রম ও পরীক্ষা পদ্ধতিতে বড়সড় পরিবর্তন আনল সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (CBSE)। আগামী ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হতে চলেছে নতুন নিয়ম। ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত নির্দেশিকায় নবম ও দশম শ্রেণির পাঠ্যক্রম, বিষয় নির্বাচন, বোর্ড পরীক্ষা এবং পাশের নম্বর নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছে বোর্ড। নতুন নিয়মে দশম শ্রেণির সিলেবাস থেকে বাদ পড়ছে পরিবেশবিদ্যা। অন্যদিকে, বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
তবে এখনই সব পড়ুয়াকে নতুন নিয়মে পরীক্ষা দিতে হবে না। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে আগের নিয়মই বহাল থাকবে। অর্থাৎ, নতুন পাঠ্যক্রম ও মূল্যায়ন পদ্ধতি কার্যকর হবে ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের দশম শ্রেণির পরীক্ষার্থীদের জন্য।
কোন কোন বিষয় পড়তে হবে পড়ুয়াদের?
সিবিএসই-র নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের মোট ন’টি বিষয় পড়তে হবে। এর মধ্যে থাকবে তিনটি ভাষা, গণিত, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, কলাশিক্ষা, শারীরশিক্ষা ও সুস্থতা এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষা। অর্থাৎ, মূল পাঠ্যক্রমে ভাষা ও প্রচলিত বিষয়গুলির পাশাপাশি দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার উপরেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়াও পড়ুয়ারা বোর্ডের তালিকাভুক্ত ৫৭টি বিষয়ের মধ্যে থেকে একটি ঐচ্ছিক বিষয় বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে। এই তালিকায় বিভিন্ন ভাষার পাশাপাশি কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন, হোম সায়েন্স, পেইন্টিং, সংগীত এবং ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয় রয়েছে। তবে ঐচ্ছিক ভাষা নির্বাচন করলে সেটি আগে বেছে নেওয়া তিনটি ভাষার থেকে আলাদা হতে হবে।
পড়ুয়াদের জন্য থাকছে আরও কিছু বিকল্প। আগ্রহ ও দক্ষতা অনুযায়ী তারা অ্যাডভান্সড গণিত, অ্যাডভান্সড বিজ্ঞান অথবা ২২টি বৃত্তিমূলক দক্ষতাভিত্তিক বিষয়ের মধ্যে থেকে একটি বেছে নিতে পারবে। নির্বাচিত বিষয়ের ধরন অনুযায়ী পরীক্ষা ও মূল্যায়নের পদ্ধতি ঠিক হবে।
নতুন নিয়মে পাঁচটি বাধ্যতামূলক বিষয়ে বোর্ডের পরীক্ষা দিতে হবে পড়ুয়াদের। বিষয়গুলি হল R1 ও R2 ভাষা, গণিত, বিজ্ঞান এবং সমাজবিজ্ঞান। অর্থাৎ, ভাষার পাশাপাশি গণিত, বিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের ফলাফলও বোর্ড পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
অন্যদিকে, R3 ভাষা, কলাশিক্ষা এবং শারীরশিক্ষা ও সুস্থতার মূল্যায়ন হবে স্কুলের অভ্যন্তরীণ পদ্ধতিতে। এই দুই ক্ষেত্রের মূল্যায়নে প্রচলিত নম্বরের পরিবর্তে গ্রেড দেওয়া হবে বলে নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে। তবে অতিরিক্ত কোনও বিষয় বেছে নিলে সেই বিষয়ের ক্ষেত্রেও বোর্ডের পরীক্ষা দিতে হতে পারে।
নতুন নিয়মে দশম শ্রেণির পাঁচটি বাধ্যতামূলক বিষয়ে পাশ করতে হলে বোর্ডের পরীক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন মিলিয়ে অন্তত ৩৩ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। অর্থাৎ, শুধু বোর্ড পরীক্ষার নম্বর নয়, স্কুলের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের নম্বরও পাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ধরা যাক, কোনও বিষয়ের মোট নম্বর ১০০। এর মধ্যে বোর্ড পরীক্ষার জন্য বরাদ্দ ৮০ এবং অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের জন্য ২০ নম্বর। সেক্ষেত্রে বোর্ড পরীক্ষায় ৮০-র মধ্যে অন্তত ২৪ এবং অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে ২০-র মধ্যে ৯ পেলে মোট নম্বর দাঁড়াবে ৩৩। অর্থাৎ, পাশের জন্য প্রয়োজনীয় ৩৩ শতাংশ নম্বর পূরণ হবে।
সব মিলিয়ে ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে সিবিএসইর দশম শ্রেণির পড়াশোনা ও মূল্যায়ন ব্যবস্থায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে। বিশেষ করে বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা এবং বিষয় নির্বাচনে নতুন বিকল্প চালু করার ফলে পড়ুয়াদের দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে পড়ুয়া ও অভিভাবকদের বোর্ডের সম্পূর্ণ নির্দেশিকা ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি।



