দীপাবলি ও কালীপুজোর আগে বাড়িঘর পরিষ্কার করে সাজিয়ে তোলার প্রস্তুতি শুরু করেন অনেকেই। উৎসবের আগে ঘরদোর পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি বাস্তুশাস্ত্রের কয়েকটি প্রচলিত নিয়ম মেনেও চলেন অনেকে। বাস্তুশাস্ত্রের বিশ্বাস অনুযায়ী, ঘর পরিষ্কারের সময় বিশেষ করে বাড়ির প্রধান প্রবেশদ্বার, পুজোর ঘর এবং উত্তর-পূর্ব দিকের পরিচ্ছন্নতার উপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সামান্য কিছু ভুলের কারণে বাড়ির পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হয়। তাই উৎসবের প্রস্তুতির সময় কোন চারটি ভুল এড়িয়ে চলবেন, জেনে নিন।
১. বাড়িতে ভাঙাচোরা ও অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমিয়ে রাখবেন না: দীপাবলির আগে ঘর পরিষ্কারের সময় প্রথমেই নজর দিন দীর্ঘদিন ধরে জমিয়ে রাখা অব্যবহৃত জিনিসপত্রের দিকে। ভাঙা বাসন, নষ্ট বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম, পুরনো কাগজপত্র, অকেজো আসবাব কিংবা অপ্রয়োজনীয় বাক্স অনেক সময় বছরের পর বছর বাড়িতে পড়ে থাকে।
বাস্তুশাস্ত্রের প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, বাড়িতে ভাঙাচোরা ও অব্যবহৃত জিনিস জমিয়ে রাখা শুভ নয়। এতে বাড়ির পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হয়। তাই উৎসবের আগে অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ঘর গোছানো ভালো। যে জিনিস মেরামত করে ব্যবহার করা সম্ভব, তা ফেলে না দিয়ে সারিয়ে নিন। ব্যবহারযোগ্য জিনিস অন্যের কাজে লাগলে দানও করতে পারেন।
২. বাড়ির প্রধান প্রবেশদ্বার অপরিষ্কার রাখবেন না: বাস্তুশাস্ত্রে বাড়ির প্রধান প্রবেশদ্বারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পথ দিয়েই বাড়িতে ইতিবাচক শক্তির প্রবেশ ঘটে। তাই উৎসবের আগে শুধু ঘরের ভিতর পরিষ্কার করলেই হবে না, প্রধান দরজার দিকেও সমান নজর দিতে হবে।
দরজার আশপাশে জমে থাকা ধুলো, ময়লা ও মাকড়সার জাল পরিষ্কার করুন। দরজার সামনে অপ্রয়োজনীয় জিনিস, পুরনো জুতো বা আবর্জনা জমিয়ে রাখবেন না। দরজার হাতল, নামফলক এবং প্রবেশপথও ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন। চাইলে ফুলের তোরণ, আলপনা বা রঙ্গোলি দিয়ে সাজিয়ে তুলতে পারেন বাড়ির প্রবেশদ্বার।
৩. পুজোর ঘর পরিষ্কারের ক্ষেত্রে অবহেলা করবেন না: দীপাবলি ও কালীপুজোর প্রস্তুতিতে বাড়ির পুজোর ঘর পরিষ্কার করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় বাড়ির অন্যান্য অংশ পরিষ্কার করা হলেও পুজোর ঘরের ছোটখাটো বিষয়গুলি নজর এড়িয়ে যায়।
বাস্তুশাস্ত্রের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, পুজোর স্থান সব সময় পরিচ্ছন্ন ও গোছানো রাখা উচিত। তাই দেবদেবীর মূর্তি ও ছবির উপর জমে থাকা ধুলো পরিষ্কার করুন। পুজোর বাসন, প্রদীপ এবং অন্যান্য সামগ্রী ভালোভাবে ধুয়ে রাখুন। পুরনো শুকনো ফুল, ব্যবহৃত পুজোর সামগ্রী এবং অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেলুন। পুজোর ঘরে যেন পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচল করতে পারে, সেদিকেও নজর দিন।
৪. বাড়ির ঈশান কোণ ও অন্ধকার জায়গাগুলি অবহেলা করবেন না: বাস্তুশাস্ত্রে বাড়ির উত্তর-পূর্ব দিককে ঈশান কোণ বলা হয়। এই দিককে পুজো ও আধ্যাত্মিক কাজের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। তাই দীপাবলির আগে এই অংশে অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জমিয়ে না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ঈশান কোণ পরিষ্কার, গোছানো এবং পর্যাপ্ত আলোযুক্ত রাখুন। একই সঙ্গে বাড়ির সিঁড়ির নীচে, স্টোররুমে, আলমারির পিছনে কিংবা ভারী আসবাবের তলায় জমে থাকা ধুলো-ময়লাও সরিয়ে ফেলুন। অনেক সময় ঘরের দৃশ্যমান অংশ পরিষ্কার হলেও এই জায়গাগুলি উপেক্ষিত থেকে যায়। উৎসবের আগে বাড়ির প্রতিটি কোণ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নেওয়া জরুরি।
দীপাবলির আগে ঘর পরিষ্কারের ক্ষেত্রে এই চারটি বিষয় মাথায় রাখলে বাড়ি আরও পরিচ্ছন্ন ও গোছানো থাকবে। বাস্তুশাস্ত্রের নিয়মগুলি মূলত প্রচলিত বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের উপর নির্ভরশীল। তবে উৎসবের আগে অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরি করা যে কোনও পরিবারের জন্যই উপকারী।



