সনাতন ধর্ম ও জ্যোতিষশাস্ত্রে গুরু-পুষ্য যোগকে অত্যন্ত শুভ ও ফলদায়ক সময় হিসেবে গণ্য করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই বিশেষ যোগে কেনা জিনিস দীর্ঘদিন শুভ ফল প্রদান করে এবং জীবনে সমৃদ্ধি, সৌভাগ্য ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আসে। ২০২৬ সালের ১৮ জুন, বৃহস্পতিবার তৈরি হতে চলেছে এই বিরল গুরু-পুষ্য যোগ, যা ভোর ৫টা ২৩ মিনিট থেকে সকাল ১১টা ২৩ মিনিট পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
জ্যোতিষ মতে, পুষ্য নক্ষত্র ২৭টি নক্ষত্রের মধ্যে অন্যতম শুভ। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই নক্ষত্রের সঙ্গেই দেবী লক্ষ্মীর বিশেষ যোগ রয়েছে। তাই এই সময়ে কেনাকাটা করলে তা শুভ ফল বয়ে আনে বলে মনে করা হয়। শুধু সোনা বা রুপো নয়, কয়েকটি সাধারণ ও তুলনামূলক কম দামের জিনিসও এই দিনে ঘরে আনলে লক্ষ্মীর আশীর্বাদ লাভ করা যায় বলে বিশ্বাস।


কেন বিশেষ গুরু-পুষ্য যোগ?
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, বৃহস্পতিবারে পুষ্য নক্ষত্র পড়লে গুরু-পুষ্য যোগ গঠিত হয়। এই সময় নতুন ব্যবসা শুরু, সম্পত্তি ক্রয়, বিনিয়োগ, ধর্মীয় কাজ বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই সময়ে শুরু হওয়া কাজ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং ইতিবাচক ফল দেয়।
১. পিতলের হাতি
গুরু-পুষ্য যোগে পিতলের হাতি কিনে ঘরে রাখা শুভ বলে মনে করা হয়। জ্যোতিষ মতে, এটি সৌভাগ্য, স্থায়ী সমৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক উন্নতির প্রতীক। অনেকেই বিশ্বাস করেন, বাড়িতে পিতলের হাতি রাখলে আর্থিক বাধা দূর হয়।
২. মহালক্ষ্মী যন্ত্র
দেবী লক্ষ্মীর কৃপা লাভের উদ্দেশ্যে এই দিনে মহালক্ষ্মী যন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার পরামর্শ দেন জ্যোতিষীরা। বাড়ি বা ব্যবসার স্থানে এই যন্ত্র স্থাপন করলে আর্থিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পায় বলে বিশ্বাস করা হয়।


৩. হলুদ কড়ি
শাস্ত্রমতে, হলুদ কড়ি দেবী লক্ষ্মীর অত্যন্ত প্রিয়। গুরু-পুষ্য যোগে ৭টি হলুদ কড়ি কিনে পূজার পর অর্থ রাখার স্থানে সংরক্ষণ করলে ধনসম্পদ বৃদ্ধি ও আর্থিক সৌভাগ্য লাভ হয় বলে প্রচলিত বিশ্বাস।
৪. শঙ্খপুষ্পীর মূল
জ্যোতিষ মতে, গুরু-পুষ্য যোগে শঙ্খপুষ্পী গাছের মূল ঘরে আনলে আর্থিক স্থিতি বজায় থাকে। গঙ্গাজল দিয়ে শুদ্ধ করে পূজা করার পর এটি অর্থ সংরক্ষণের স্থানে রাখা হয়।
৫. একাক্ষী নারকেল
একাক্ষী নারকেলকে লক্ষ্মীর প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। গুরু-পুষ্য যোগে এটি ঘরে এনে পূজাস্থানে রাখলে সুখ, সমৃদ্ধি ও ধনবৃদ্ধি হয় বলে বিশ্বাস করেন অনেকেই। বিশেষ করে লক্ষ্মীপুজোর সময় একাক্ষী নারকেল ব্যবহারকে অত্যন্ত শুভ মনে করা হয়।
তবে মনে রাখতে হবে, এগুলি মূলত ধর্মীয় ও জ্যোতিষীয় বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে প্রচলিত ধারণা। এর বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবুও বহু মানুষ শুভ সময়ে এই ধরনের আচার-অনুষ্ঠান পালন করে মানসিক শান্তি ও ইতিবাচকতার অনুভূতি লাভ করেন।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



