Barun Biswas Murder Case-এ নতুন মোড়। প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাসের পরিবারের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাক্ষাতের পর রাজ্য সরকার এই মামলায় বিশেষ সরকারি আইনজীবী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুক্রবার বনগাঁ মহকুমা আদালতে মামলার ৩৭তম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্যেই এই পদক্ষেপ সামনে আসে। দীর্ঘদিন ধরে বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসা বরুণ বিশ্বাসের পরিবার এই সিদ্ধান্তে নতুন করে আশার আলো দেখছেন।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই মামলায় দেবরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিশেষ সরকারি আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। আদালতে মামলাটি আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
১৪ বছর পরও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন
২০১২ সালের ৫ জুলাই উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙা স্টেশনের কাছে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস। তিনি উত্তর ২৪ পরগনার বহুচর্চিত সুটিয়া গণধর্ষণ মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই তদন্ত এবং বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিবার।
বরুণ বিশ্বাসের দাদা অসিত বিশ্বাস এবং দিদি প্রমিলা রায় সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি ও সঠিক বিচারের দাবি জানান। তাঁদের দাবি, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও মামলার নিষ্পত্তি হয়নি এবং প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে।
আদালতে কী চলছে?
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মামলায় মোট ৭৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হওয়ার কথা। ইতিমধ্যেই ৩৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছিল। শুক্রবার ৩৭তম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হয়।
আগামী ৩১ আগস্ট বরুণ বিশ্বাসের ৮৫ বছর বয়সি বাবা জগদীশচন্দ্র বিশ্বাসের সাক্ষ্যগ্রহণ নির্ধারিত হয়েছে।
মামলার বর্তমান অবস্থা
মামলার নথি অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন বিচার চলাকালীন মারা গিয়েছেন। এছাড়া এক কিশোর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে জুভেনাইল আদালতে আগেই রায় ঘোষণা হয়েছিল। বাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া এখনও চলছে।
প্রসঙ্গত, এই মামলায় অতীতে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নামও বিভিন্ন মহলে অভিযোগ হিসেবে উত্থাপিত হয়েছিল। তবে ওই অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং এ বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্তও হয়নি। তাই বিষয়টি অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত।
বিশেষ সরকারি আইনজীবী নিয়োগের সিদ্ধান্তের পর বরুণ বিশ্বাসের পরিবার এবং সুটিয়ার বাসিন্দাদের একাংশের আশা, বহুদিনের এই বহুচর্চিত মামলার বিচারপ্রক্রিয়া এবার আরও দ্রুত এগোবে। তবে মামলার চূড়ান্ত রায় আদালতের উপরই নির্ভর করবে।