কমিশন ‘ঐক্যবদ্ধ’, একফ্রেমে ছবি প্রকাশ করে বিতর্ক ওড়াল টিম জ্ঞানেশ

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতপার্থক্যের জল্পনার মধ্যেই তিন কমিশনারের একসঙ্গে ছবি প্রকাশ। কমিশনের দাবি, এসআইআর-এর সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছিল।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিহারের পর পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যে এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতপার্থক্যের জল্পনা তৈরি হয়েছিল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। সেই বিতর্কের মধ্যেই শনিবার তিন কমিশনারের একফ্রেমে ছবি প্রকাশ করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের বক্তব্য, এসআইআর-এর সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছিল।

শনিবার সন্ধ্যায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠকে বসেন নির্বাচন কমিশনার বিবেক জোশী এবং সুখবীর সিং সান্ধু। বৈঠকের পর তিন কমিশনারের একসঙ্গে ছবি প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি একটি বিবৃতিও জারি করে কমিশন।

বিবৃতিতে কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ক্যাবিনেট সেক্রেটারিকে পাঠানো চিঠিটি কোনও নীতি বা তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ছিল না। নির্বাচন কমিশনে ডেপুটেশনে থাকা এক আধিকারিকের কাজের বণ্টন সংক্রান্ত বিষয় নিয়েই ওই চিঠি পাঠানো হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে।

কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, কাজ বণ্টন সংক্রান্ত নির্দেশ দুই নির্বাচন কমিশনারের তরফে দেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের উপর ডেপুটি নির্বাচন কমিশনারের তদারকিও প্রত্যাহার করা হয়নি বলে অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে।

এর আগে প্রকাশ্যে আসা দুই নির্বাচন কমিশনারের চিঠি ঘিরেই মূলত কমিশনের অন্দরে মতপার্থক্যের জল্পনা তৈরি হয়েছিল। ওই চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। বিশেষ করে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি এবং বাদ দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত সফটওয়্যারের কার্যপ্রণালী নিয়েও আপত্তির কথা উঠে আসে।

তবে শনিবারের বিবৃতিতে এসআইআর প্রসঙ্গে কোনও অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের কথা অস্বীকার করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দাবি, বিষয়টি তারা গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখেছে এবং এসআইআর নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তিন নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে কোনও মতবিরোধ ছিল না।

কমিশনের তরফে আরও জানানো হয়েছে, বিহার থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গ-সহ অন্যান্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করে ২০২৫ সালের ২৪ জুন এসআইআর সংক্রান্ত নির্দেশ জারি করা হয়েছিল। কমিশনের দাবি, সর্বসম্মতিক্রমেই ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

এদিকে, গোটা বিতর্কের সূত্রপাত ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি প্রতিবেদনের পর। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, গত ১০ মাসে এসআইআর, ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি ও বাদ দেওয়া এবং তথ্যকেন্দ্রীকরণ সংক্রান্ত জ্ঞানেশ কুমারের অন্তত ১৪টি সিদ্ধান্তের বিষয়ে বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন।

প্রতিবেদনটি প্রকাশ্যে আসার পরই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। বিরোধী দলগুলিও নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলে। যদিও কমিশনের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে এসআইআর নিয়ে কোনও মতবিরোধের কথা অস্বীকার করা হয়েছে।

তিন কমিশনারের একসঙ্গে ছবি প্রকাশের বিষয়টিকেও রাজনৈতিক মহলে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। বিরোধী শিবিরের একাংশ এটিকে ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ হিসেবে দেখছে। তবে সেটি বিরোধীদের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা। কমিশনের নিজস্ব বক্তব্য হল, কমিশনের মধ্যে কোনও দ্বন্দ্ব নেই এবং এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছিল।

ফলে এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, শনিবারের বিবৃতিতে তার সরাসরি জবাব দেওয়ার চেষ্টা করল কমিশন। একফ্রেমে তিন শীর্ষ আধিকারিকের ছবি এবং একইসঙ্গে প্রকাশিত বিবৃতির মাধ্যমে কমিশন তাদের মধ্যে ঐক্যের বার্তাই সামনে এনেছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন