প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ, ভাঙচুর-ঘেরাও-বিক্ষোভ বিজেপির!

ত্রিপুরার বামুটিয়ায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের কনভয় ঘিরে বিক্ষোভ ও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ। সিপিএমের অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে, পাল্টা দাবি অস্বীকার গেরুয়া শিবিরের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ত্রিপুরায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের কনভয় ঘিরে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রবিবার বামুটিয়ার কালীবাজার এলাকায় সিপিএমের একটি কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে এই ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। সিপিএমের অভিযোগ, বিজেপি-সমর্থকরা মানিক সরকারের কনভয়ের পথ আটকান এবং তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাথর ও ডিম ছোড়া হয়। একটি এসকর্ট গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে। বিজেপি অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার রবিবার বামুটিয়ার কালীবাজার এলাকায় একটি সিপিএমের সাংগঠনিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। পুলিশ সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সেই সময় একদল বিক্ষোভকারী তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরে স্লোগান দিতে থাকেন এবং কালো পতাকা দেখান। কিছু সময়ের জন্য তাঁর কনভয়ের চলাচলও আটকে যায়।

সিপিএমের অভিযোগ, বিক্ষোভের পাশাপাশি কনভয়ের উপর হামলার চেষ্টা হয়। একটি এসকর্ট গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও দলের তরফে দাবি করা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীরা পরে মানিক সরকারকে নিরাপদে স্থানীয় সিপিএম কার্যালয়ে পৌঁছে দেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পরে নির্ধারিত কর্মসূচিতেও যোগ দেন।

ঘটনা নিয়ে মানিক সরকার নিজেও অভিযোগ করেছেন যে দলীয় কর্মসূচিতে যাওয়ার সময় তাঁর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয় এবং ইট-পাথর নিক্ষেপ করা হয়। সিপিএমের স্থানীয় নেতৃত্বের তরফে একই ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে।

তবে প্রকাশ্যে আসা বিভিন্ন প্রতিবেদনে ঘটনার কিছু বিবরণে পার্থক্য রয়েছে। কোথাও গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোড়ার অভিযোগের কথা বলা হয়েছে, আবার কোথাও মূলত কনভয় আটকানো, কালো পতাকা দেখানো এবং এসকর্ট গাড়ি ভাঙচুরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাই হামলার সম্পূর্ণ ধরন ও কারা এতে জড়িত ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।

সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক তথা বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা তৈরি করা হয়েছিল। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বাম শিবির।

সিপিএমের আরও অভিযোগ, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বিরোধী দলের নেতাদের বাধা দেওয়ার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে পরে আগরতলাতেও বামেদের বিক্ষোভ কর্মসূচি হয় বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

অন্যদিকে বিজেপি এই ঘটনায় তাদের কর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিজেপি মুখপাত্র নবেণ্দু ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের যোগ নেই। ফলে একদিকে সিপিএমের অভিযোগ এবং অন্যদিকে বিজেপির অস্বীকার—দুই পক্ষের বক্তব্যই সামনে এসেছে।

ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। পুলিশের তরফে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল এবং মানিক সরকারকে নিরাপদে কর্মসূচিস্থলে পৌঁছে দেওয়া হয়।

ঘটনার নিন্দা করেছে কংগ্রেসও। কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মতো একজন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতার কনভয় ঘিরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তাঁর মন্তব্যের মধ্যে ‘জঙ্গলরাজ’-এর প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। তবে এটি তাঁর রাজনৈতিক মন্তব্য, কোনও সরকারি তদন্তের সিদ্ধান্ত নয়।

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, সিপিএমের কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে মানিক সরকারের গাড়ি আটকানোকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। এরপর মানিক সরকারকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন ত্রিপুরায় টিটিএএডিসি-র ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। ফলে বামুটিয়ার এই ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মানিক সরকারের কনভয় ঘিরে বিক্ষোভ, এসকর্ট গাড়ি ভাঙচুর এবং ইট-পাথর বা ডিম ছোড়ার অভিযোগ—পুরো ঘটনাটিই এখন তদন্তের আওতায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের পরিচয়, সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য থেকে পরিস্থিতির পূর্ণ ছবি পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মানিক সরকার শারীরিকভাবে অক্ষত অবস্থায় কর্মসূচিতে পৌঁছেছিলেন। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিপিএম, কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই এখন তদন্তের ফলাফলের দিকে নজর রাজনৈতিক মহলের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন