বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ওম পুরীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ফের চর্চা শুরু হয়েছে। বহু বছর পর এক সাক্ষাৎকারে তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী ও লেখিকা সীমা কাপুর এমন কিছু ব্যক্তিগত স্মৃতি তুলে ধরেছেন, যা নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনে দিয়েছে প্রয়াত অভিনেতার দাম্পত্য জীবনকে। বিশেষ করে গর্ভাবস্থার সময়ের মানসিক যন্ত্রণা এবং সন্তান হারানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁর মন্তব্য ব্যাপকভাবে নজর কেড়েছে।
১৯৯১ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন ওম পুরী এবং সীমা কাপুর। তবে সেই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বিয়ের প্রায় এক বছরের মধ্যেই তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই সময়কার নানা অজানা ঘটনার কথা সামনে আনেন সীমা।
সীমার দাবি, তিনি যখন সন্তানসম্ভবা ছিলেন, তখনই ওম পুরীর জীবনে অন্য এক নারীর আগমন ঘটে। সেই পরিস্থিতি তাঁর মানসিক অবস্থাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং ব্যক্তিগত আঘাতের মধ্যে তিনি নিজের মায়ের বাড়িতে চলে যান।
সাক্ষাৎকারে সীমা জানান, সেই সময়ই তিনি তাঁর অনাগত সন্তানকে হারান। তাঁর কথায়, সন্তানটি তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে উঠতে পারত। কারণ তখন তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, দাম্পত্য সম্পর্ক আর আগের জায়গায় ফিরবে না। সন্তান হারানোর সেই শোক কাটিয়ে উঠতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, সেই বেদনা সামলানোর জন্য তিনি নিয়মিতভাবে তাঁর হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে উদ্দেশ্য করে চিঠি লিখতেন। সেই লেখালিখিই তাঁকে মানসিকভাবে কিছুটা শক্তি জুগিয়েছিল।
এই ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরাও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন। সীমার দাদা এবং অভিনেতা অন্নু কাপুর নাকি ওম পুরীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে সীমা নিজে কোনও আইনি লড়াইয়ে জড়াতে চাননি। তাঁর মতে, পরিস্থিতিকে আরও জটিল করার বদলে তিনি নীরব থাকাই শ্রেয় মনে করেছিলেন।
সন্তান হারানোর ঘটনার কিছুদিন পরই তাঁর কাছে বিবাহবিচ্ছেদের নথি পৌঁছয় বলে দাবি করেছেন সীমা। পরপর দুটি বড় ব্যক্তিগত ধাক্কা তাঁর জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে।
সীমার বক্তব্য অনুযায়ী, জীবনের শেষ পর্যায়ে ওম পুরী তাঁর সঙ্গে আবার যোগাযোগ করেন। লন্ডনে একটি বড় অস্ত্রোপচারের আগে তিনি ফোন করে অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন। সেই কথোপকথন তাঁদের সম্পর্কের দীর্ঘদিনের দূরত্ব কিছুটা হলেও কমিয়ে দিয়েছিল বলে জানিয়েছেন সীমা।
প্রয়াত অভিনেতা ওম পুরী ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম শক্তিশালী অভিনেতা হিসেবে আজও স্মরণীয়। তবে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সীমা কাপুরের এই নতুন মন্তব্য আবারও মনে করিয়ে দিল, আলোয় মোড়া তারকাদের জীবনেও অনেক অজানা বেদনা ও জটিলতার গল্প লুকিয়ে থাকে।



