বাংলা সিনেমার অন্দরে নতুন বিতর্কের কেন্দ্রে ‘অভিমান’। ছবি মুক্তির দিনই চিত্রনাট্য নিয়ে ওঠা প্রশ্নে সরব হলেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। পরিচালক সুমন ঘোষের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে যখন ‘স্ক্রিপ্ট চুরি’ বিতর্কে সরগরম টলিপাড়া, তখনই প্রিমিয়ারের মঞ্চ থেকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন অভিনেতা। চার দশকের কেরিয়ারের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় ক্ষোভও প্রকাশ করেন তিনি।
১৯ জুন মুক্তি পেয়েছে ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত পরিচালিত ছবি ‘অভিমান’। ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় রয়েছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত এবং শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। মুক্তির দিন সকালে পরিচালক সুমন ঘোষ দাবি করেন, তিনি আগে একটি চিত্রনাট্য প্রসেনজিৎকে শুনিয়েছিলেন, যার সঙ্গে সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির কিছু সাদৃশ্য রয়েছে। সেই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় নানা জল্পনা।
বিতর্কের জবাবে প্রসেনজিৎ জানান, সুমন ঘোষ তাঁর অত্যন্ত কাছের মানুষ এবং বিষয়টি নিয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছে। অভিনেতার দাবি, সুমন কখনও সরাসরি ‘গল্প চুরি’-র অভিযোগ তোলেননি। কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যেন ছবির নির্মাতারা ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যের কাজ ব্যবহার করেছেন।
প্রসেনজিতের কথায়, যদি সত্যিই কোনও মিল থেকে থাকে, তাহলে দর্শকরাই বিচার করুন। তিনি বলেন, সুমনের চিত্রনাট্য তাঁর বিশ্বস্ত মহলে পড়া হোক এবং একই সঙ্গে ‘অভিমান’ ছবিটিও সকলের সামনে রয়েছে। দুই কাজের মধ্যে আদৌ কোনও সাদৃশ্য আছে কি না, তা মানুষই নির্ধারণ করবেন।
এই বিতর্কের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আঘাত পেয়েছেন নিজের পেশাগত সুনাম নিয়ে। অভিনেতার বক্তব্য, ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করার পর তাঁকে ‘চোর’ বলা হচ্ছে, যা তাঁর দীর্ঘ অভিনয়জীবনের সততা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেন, একজন অভিনেতা হিসেবে তাঁর কাজ চরিত্র নির্বাচন করা এবং অভিনয় করা। চিত্রনাট্যের মেধাস্বত্ব বা আইপিআরের উপর তাঁর কোনও অধিকার থাকে না।
প্রসেনজিৎ আরও বলেন, তাঁর অভিনয় জীবনে তিনি শতাধিক পুলিশ অফিসার, চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার কিংবা অপরাধীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। কোনও চরিত্রে অভিনয় করা মানেই সেই চরিত্র বা গল্পের মালিকানা দাবি করা নয়। একজন শিল্পী হিসেবে বিভিন্ন ধরনের চরিত্র বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা তাঁর রয়েছে এবং সেই স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা উচিত নয়।
অভিনেতার দাবি, তিনি ব্যক্তিগতভাবে সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর অভিমান ভাঙানোরও চেষ্টা করেছেন। এমনকি ভবিষ্যতে সুমনের গল্প নিয়ে কাজ করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। তাঁর মতে, দুই প্রকল্পের মধ্যে মৌলিক স্তরে কোনও মিল নেই, তবুও ভুল বোঝাবুঝির অবসান চান তিনি।
টলিউডের এই বিতর্ক এখন শিল্পীমহল এবং দর্শকদের মধ্যেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বার্তা স্পষ্ট— অভিযোগের বিচার হোক তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে, অনুমান বা সোশ্যাল মিডিয়ার রায়ের উপর নয়। আর সেই কারণেই তিনি মনে করেন, চার দশকের পরিশ্রমে গড়ে ওঠা তাঁর পরিচয়কে ‘চোর’ তকমায় সীমাবদ্ধ করা অন্যায্য।




