মুম্বইয়ে অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার, ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুহুর পুষ্পা নার্সি পার্ক এলাকার কাছে এই ঘটনা ঘটে বলে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিনেতা নিরাপদ রয়েছেন। তবে তাঁর গাড়িচালক এবং এক অটোরিকশাচালক আহত হয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার সন্ধ্যায় ফুটবল খেলতে গিয়েছিলেন টাইগার শ্রফ। সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ ফেরার সময় তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে বাইকে আসা কয়েকজন গুলি চালায় বলে অভিযোগ। কত রাউন্ড গুলি চলেছিল, তা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে সংখ্যার পার্থক্য রয়েছে। তাই তদন্তের চূড়ান্ত তথ্য সামনে না আসা পর্যন্ত নির্দিষ্ট সংখ্যা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মুম্বই পুলিশ। আহত দু’জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত পুলিশি বক্তব্য অনুযায়ী, টাইগার শ্রফের গায়ে গুলি লাগেনি এবং তিনি সুস্থ রয়েছেন।
এই ঘটনার পর লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা একটি বার্তা বা পোস্টে হামলার দায় স্বীকার করা হয়েছে বলে খবর। তবে সেই দাবির সত্যতা এবং হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রকৃত যোগসূত্র এখনও পুলিশি তদন্তের বিষয়।
তদন্তকারীরা হামলাকারীদের শনাক্ত করা, ঘটনার পিছনের উদ্দেশ্য খুঁজে বের করা এবং কোনও সংগঠিত অপরাধচক্রের ভূমিকা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। দায় স্বীকারের দাবি সামনে এলেই সংশ্লিষ্ট গ্যাংয়ের জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে যায় না। পুলিশি তদন্তের ফলের উপরই নির্ভর করছে ঘটনার প্রকৃত চিত্র।
মুম্বইয়ে বলিউডের একাধিক পরিচিত ব্যক্তিত্বকে ঘিরে অতীতে হুমকি ও গুলি চালানোর ঘটনা সামনে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে টাইগার শ্রফের গাড়িতে হামলার অভিযোগ নতুন করে তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
তবে এই ঘটনায় হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল, টাইগার শ্রফকে নির্দিষ্টভাবে লক্ষ্য করা হয়েছিল কি না এবং এর সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার যোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও সম্ভাবনাকেই নিশ্চিত তথ্য হিসেবে তুলে ধরা ঠিক হবে না।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খবর, টাইগার শ্রফ নিরাপদ রয়েছেন বলে পুলিশি সূত্রে জানানো হয়েছে। আহত দু’জনের চিকিৎসা এবং হামলাকারীদের শনাক্ত করার পাশাপাশি ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে।




