দুর্গাপুজোর মহাষ্টমীর দিন নতুন করে আইনি জটিলতায় বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর বিরুদ্ধে নতুন এফআইআর দায়ের হয়েছে বলে খবর। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার দুপুর ১টায় তাঁকে নারকেলডাঙা থানায় তলব করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এর আগে নিজের গাড়িতে হামলার অভিযোগ তুলে থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলেন কুণাল। এবার সেই ঘটনাকে ঘিরেই বিজেপির তরফে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
কুণাল ঘোষ পুলিশের তলবে সাড়া দিয়ে থানায় যাবেন কি না, তা নিয়ে সকাল থেকেই আলোচনা শুরু হয়। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে দাবি, নির্ধারিত সময়েই থানায় হাজির হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। তবে তলবের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং জিজ্ঞাসাবাদে কী উঠে আসে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে নারকেলডাঙা থানায় নতুন অভিযোগ দায়ের করেছে বিজেপি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগের নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু এবং পুলিশি নোটিসের সম্পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ্যে না আসায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাচ্ছে না।
ঘটনাটির প্রেক্ষাপট অবশ্য কয়েক সপ্তাহ আগের। কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেছিলেন, পরপর দু’দিন তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। প্রথম ঘটনাটি ঘটে হুগলির উত্তরপাড়ায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যাওয়ার পথে। দ্বিতীয় ঘটনায় বেলেঘাটায় তাঁর গাড়ির পিছু ধাওয়া করা এবং ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।
কুণাল ঘোষের অভিযোগ অনুযায়ী, উত্তরপাড়ায় তাঁর গাড়ির উপর ডিম ছোড়া হয় এবং লোহার রড দিয়ে গাড়ির কাচ ভাঙচুর করা হয়। এর পরের দিন বেলেঘাটায় একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে একদল বাইক আরোহী তাঁর গাড়ির পিছু নেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কুণালের দাবি ছিল, হামলাকারীদের কয়েকজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ও অন্যান্য অস্ত্র ছিল। পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে উঠলে তিনি নিরাপত্তার জন্য নারকেলডাঙা থানায় আশ্রয় নেন। এই ঘটনার পর পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন তৃণমূল বিধায়ক।
তবে হামলার সঙ্গে বিজেপির যোগ রয়েছে বলে কুণাল যে অভিযোগ করেছিলেন, তা নিয়ে বিজেপি আপত্তি জানিয়েছিল। দলের তরফে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয় এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তোলা হয়। ফলে হামলার ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হওয়ার কথা।
আগের হামলার ঘটনায় কুণাল ঘোষের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছিল। তাঁর বক্তব্যও রেকর্ড করা হয় বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল। সেই ঘটনার পর এবার তাঁর বিরুদ্ধেই নতুন অভিযোগ দায়েরের খবর সামনে এসেছে।
এই দুই অভিযোগকে আলাদা করে দেখা জরুরি। একদিকে কুণাল ঘোষের গাড়িতে হামলার অভিযোগের তদন্ত চলছে, অন্যদিকে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া নতুন এফআইআরের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে তলব করেছে বলে জানা গিয়েছে। কোনও অভিযোগ দায়ের হওয়া মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, এমন নয়।
সোমবার দুপুর ১টায় নারকেলডাঙা থানায় কুণাল ঘোষকে ডাকা হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে দাবি, তিনি নির্ধারিত সময়েই থানায় যাবেন। তবে থানায় হাজিরার পর তাঁকে কতক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, কী প্রশ্ন করা হবে বা তদন্তে নতুন কোনও তথ্য সামনে আসবে কি না, তা এখনও জানা যায়নি।
মহাষ্টমীর দিনে এই ঘটনা ঘিরে কলকাতার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে অভিযোগের প্রকৃতি, সংশ্লিষ্ট নথি এবং পুলিশের বক্তব্য সামনে এলেই বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।




