জাহাঙ্গির খানের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও পুলিশ-আধাসেনার উপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফলতায় বিক্ষোভ ও অশান্তির ঘটনায় এবার আরও কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। বুধবার ফলতায় এক সরকারি কর্মসূচি থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুলিশকে নির্দেশ দেন, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি হামলার অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ সংক্রান্ত ধারায় মামলা রুজুর নির্দেশও দেন তিনি।
মঙ্গলবার ধৃত তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, তাঁর মুক্তির দাবিতে একদল সমর্থক বিক্ষোভে সামিল হন এবং থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টা করেন। প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বুধবার জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় দাবি করেন, এক মাফিয়া নেতার পরিবারের সদস্যদের নেতৃত্বে পুলিশ ও আধাসেনার বিরুদ্ধে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা হয়েছিল।
এরপরই প্রশাসনের উদ্দেশে কড়া নির্দেশ দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজে যাঁদের দেখা গিয়েছে, তাঁদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। কোনও অভিযুক্ত যেন তদন্তের বাইরে না থাকে, সেই বিষয়েও জোর দেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, ফলতায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব নির্বিশেষে অপরাধে যুক্ত কাউকেই রেয়াত করা হবে না।
বিক্ষোভ চলাকালীন সরকারি কর্মী, পুলিশ বা আধাসেনার উপর হামলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আর্থিক ও আইনি— দুই ধরনের পদক্ষেপই বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার জাহাঙ্গির খানকে তদন্তের স্বার্থে এলাকায় নিয়ে যায় পুলিশ। সেই সময় তাঁকে কোমরে দড়ি বেঁধে নিয়ে যাওয়া নিয়ে আপত্তি ওঠে বলে অভিযোগ। এরপর তাঁর মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে বহু মানুষকে এলাকা ছেড়ে দৌড়ে পালাতে এবং জলাশয় পেরিয়ে সরে যেতে দেখা যায়। যদিও ওই ভিডিওগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বেড়েছে।
ফলতা-কাণ্ডে ইতিমধ্যেই একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে এবং গ্রেফতারিও শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পর তদন্ত আরও গতি পেতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল। এখন নজর, তদন্তে নতুন কী তথ্য সামনে আসে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হয়।



