দুর্নীতি ও তোলাবাজি মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন বিধাননগর পুরপ্রধান সব্যসাচী দত্ত। তদন্তে উঠে এল একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কোটি টাকার আমানতের তথ্য, শুরু উৎস অনুসন্ধান।
দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া প্রাক্তন বিধাননগর পুরপ্রধান তথা তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্তকে ঘিরে তদন্তে সামনে আসছে নতুন তথ্য। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, সব্যসাচী ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে যুক্ত পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লক্ষ টাকার আমানত পাওয়া গিয়েছে। সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট সমস্ত অ্যাকাউন্ট আপাতত ‘সিজ’ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঁচটি অ্যাকাউন্টের মধ্যে একটি যৌথ অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যেখানে সব্যসাচীর সঙ্গে নাম রয়েছে তাঁর স্ত্রী ইন্দ্রানী দত্তের। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য এখন এই বিপুল অঙ্কের অর্থের উৎস খুঁজে বের করা এবং তা বৈধ নাকি অবৈধ উপায়ে জমা হয়েছে, সেই বিষয়টি যাচাই করা।
তদন্তে যাতে কোনও আর্থিক লেনদেন বা অর্থ সরানোর সম্ভাবনা না থাকে, সেই কারণেই অ্যাকাউন্টগুলির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। আর্থিক নথি ও ব্যাঙ্কিং রেকর্ডও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছেন সব্যসাচীর স্ত্রী ইন্দ্রানী দত্ত। পুলিশ আদালতে জানিয়েছে, মামলার বিভিন্ন দিক পরিষ্কার করতে তাঁর জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য মেলেনি।
সব্যসাচী দত্তকে সঙ্গে নিয়ে একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযানও চালানো হচ্ছে। মঙ্গলবার বনগাঁয় তাঁর শ্বশুরবাড়িতে তল্লাশির পর রাতেই তদন্তকারীরা পৌঁছে যান নদিয়ার হরিণঘাটায়। সেখানে তাঁর আত্মীয়ের বাড়িতেও অনুসন্ধান চালানো হয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, হরিণঘাটার গৌড়বঙ্গ রোড এলাকায় একটি বাড়িতে প্রায় ১৫ মিনিট ধরে তল্লাশি চালায় পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে সেখানে সব্যসাচী দত্তকেও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অভিযানের পর তাঁকে ফের কলকাতায় ফিরিয়ে আনা হয়।
একসময় তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়ে পরে আবার তৃণমূলে ফেরা সব্যসাচী দত্ত দীর্ঘদিন রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে পরিচিত মুখ ছিলেন। সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা তোলাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে বিধাননগর উত্তর থানায় মামলা দায়ের হয় এবং পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তকারীদের মতে, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা বিপুল অর্থ এবং বিভিন্ন সম্পত্তির সূত্র ধরে তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে। ৩.৭ কোটি টাকার উৎস, সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ফলে সব্যসাচী দত্তকে ঘিরে এই তদন্ত আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিতে পারে।



