দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর ওড়িশার পুরী থেকে গ্রেপ্তার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ। তোলাবাজি, দুর্নীতি ও জালিয়াতির একাধিক অভিযোগে তদন্তে নতুন মোড়।
দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের খোঁজে ছিলেন তিনি। অবশেষে ওড়িশার পুরী থেকে গ্রেপ্তার হলেন কলকাতা পুরসভার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ। রাজ্য পুলিশ এবং ওড়িশা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাঁকে আটক করা হয়েছে। তোলাবাজি, দুর্নীতি এবং আর্থিক অনিয়মের একাধিক অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকেই সুশান্ত ঘোষ আত্মগোপনে ছিলেন। তাঁর খোঁজে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হলেও দীর্ঘদিন কোনও হদিস পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তিগত সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হন।
তদন্তকারীদের দাবি, পুরীতে অবস্থানকালে তিনি একটি বিকল্প মোবাইল নম্বর ব্যবহার করছিলেন। সেই সিম কার্ডের লোকেশন ট্র্যাক করেই তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এরপরই ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের যৌথ দল অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
সুশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে তোলাবাজি এবং সরকারি নথি জালিয়াতির মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ। অভিযোগকারীদের দাবি, ফুটপাথের দোকান বরাদ্দ বা বিক্রির নামে বিপুল অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়েছিল।
একটি মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, জাল নথি ব্যবহার করে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকার বিনিময়ে একটি ফুটপাথের দোকান বিক্রির চেষ্টা হয়েছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে আনন্দপুর থানায় মামলা দায়ের হয় এবং তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
এ ছাড়াও স্থানীয় হকারদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। তদন্ত চলাকালীন একাধিক অভিযোগ সামনে আসার পর পুলিশের নজরে আসেন সুশান্ত ঘোষ।
তদন্তের অগ্রগতিতে কয়েক দিন আগে ওড়িশা সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁর গাড়ির চালককে আটক করা হয়েছিল। চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করেই তদন্তকারীরা গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পান বলে সূত্রের খবর। সেই সূত্র ধরেই শেষ পর্যন্ত পুরীতে পৌঁছে যায় তদন্তকারী দল।
পুলিশের দাবি, সুশান্ত ঘোষকে কলকাতায় আনা হচ্ছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অভিযোগগুলির সত্যতা, আর্থিক লেনদেনের উৎস এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে।
পুরী থেকে এই গ্রেপ্তারি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে প্রশাসন। তোলাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলাগুলির তদন্ত এখন কোন দিকে এগোয় এবং নতুন কী তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।



