গুলি-কাণ্ডে খান স্যরের বড় স্বস্তি! গ্রেফতারিতে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ, তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ আদালতের

পটনার কোচিং সেন্টার গুলি-কাণ্ডে আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর। খান স্যরকে গ্রেফতার করা যাবে না, তবে তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দিল আদালত।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পটনার বহুলচর্চিত কোচিং সেন্টার গুলি-কাণ্ডে আপাতত বড় আইনি স্বস্তি পেলেন জনপ্রিয় শিক্ষাবিদ খান স্যর। মঙ্গলবার পটনা জেলা আদালত নির্দেশ দিয়েছে, এই মামলায় তাঁকে আপাতত গ্রেফতার করা যাবে না। আগাম জামিনের আবেদন নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরই অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ পেলেন তিনি।

মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে আদালত খান স্যরের আবেদন গ্রহণ করে জানায়, তদন্ত চলাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে কোনও বলপূর্বক পদক্ষেপ করা যাবে না। তবে একইসঙ্গে আদালত স্পষ্ট করেছে, তদন্তকারীদের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে তাঁকে এবং প্রয়োজন হলে জেরার মুখোমুখিও হতে হবে।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, গ্রেফতারির উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তদন্ত প্রক্রিয়া থেমে থাকবে না। পুলিশ চাইলে তাঁকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে এবং মামলার প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে।

শুনানির সময় আদালত তদন্তকারী সংস্থাকে মামলার কেস ডায়েরি ও সংশ্লিষ্ট তথ্যপ্রমাণ জমা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে। অন্যদিকে, এই মামলার আর এক অভিযুক্ত তথা খান স্যরের প্রতিদ্বন্দ্বী কোচিং সেন্টারের মালিক রোশন আনন্দের জামিনের বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি আদালত। সেই বিষয়ে রায়দান স্থগিত রাখা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২ জুন। অভিযোগ, সেদিন ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল পটনায় খান স্যরের কোচিং সেন্টারে হামলা চালায়। কোচিং সেন্টারে ভাঙচুরের পাশাপাশি ইট-পাথর ছোড়ার ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।

হামলার পরদিন পুলিশ খান স্যরের কোচিং সেন্টারের দুই নিরাপত্তারক্ষীকে গ্রেফতার করে। তাঁদের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

এই ঘটনায় কদমকুঁয়া থানায় একটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। খান স্যরের অভিযোগ, তাঁর কোচিং সেন্টারে হামলার নেপথ্যে রয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী কোচিং ব্যবসায়ী রোশন আনন্দ। যদিও সেই অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।

উল্লেখ্য, পটনার মুসল্লাপুর এলাকার কিসান কোল্ড স্টোরেজ অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই বিহারের অন্যতম কোচিং হাব হিসেবে পরিচিত। এখানেই পাশাপাশি পরিচালিত হয় খান স্যর ও রোশন আনন্দের কোচিং সেন্টার। স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত কয়েক বছর ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও দ্বন্দ্ব চলছিল।

আদালতের অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচে আপাতত গ্রেফতারির আশঙ্কা থেকে মুক্তি পেলেও তদন্ত এখনও চলছে। কেস ডায়েরি, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আগামী দিনে মামলার মোড় কোন দিকে ঘোরে, সেদিকেই নজর রয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Arka Sana

Arka Sana

Founder & Editor, Najarbandi
16+ Years Experience • Political Reporting • Investigative Journalism • Digital Publishing

অর্ক সানা একজন সাংবাদিক, সম্পাদক, মিডিয়া উদ্যোক্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। অপরাধ সাংবাদিকতা, রাজনৈতিক রিপোর্টিং, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং ডিজিটাল নিউজ প্রকাশনায় তাঁর ১৬ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি নজরবন্দি-র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক।

View Full Author Profile →

বিজ্ঞাপন

আরও খবর