বাজেট অধিবেশন শুরুর আগেই রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা। বিধানসভার আসন বিন্যাসে এমন ছবি দেখা যেতে চলেছে, যেখানে তৃণমূলের মূল শিবির ও বিদ্রোহী শিবিরের প্রতিনিধিরা একই সারিতে বসবেন। বাজেট অধিবেশনকে ঘিরে এই সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
বিধানসভা সূত্রে খবর, অধিবেশনের আগের দিন দীর্ঘ আলোচনা ও প্রস্তুতির পর আসন বণ্টন সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান করেছে সচিবালয়। নতুন ব্যবস্থায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামানকে প্রথম সারিতে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
একই সারিতে জায়গা পেয়েছেন তৃণমূলের প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন বিধানসভা অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ফলে অধিবেশন কক্ষে রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন অবস্থানে থাকা দুই গোষ্ঠীর নেতাদের পাশাপাশি বসার বিরল ছবি দেখা যেতে পারে।
এদিকে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি নিয়ে মামলার শুনানিতে এখনও কোনও চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়নি হাই কোর্ট। সেই কারণে আপাতত বিধানসভার ভেতরে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দেওয়ার কোনও বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়নি বলে জানা গিয়েছে।
তবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, প্রয়োজন হলে তাঁরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে প্রস্তুত। তাঁর কথায়, বিধানসভায় তাঁরাই প্রকৃত তৃণমূলের প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং সংখ্যা দিয়েই সেই দাবি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
অন্যদিকে বিদ্রোহী শিবিরের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও আলোচনা চলছে। সূত্রের খবর, একটি অংশ এনসিপিআই-তে যোগদানের পক্ষে মত দিলেও অধিকাংশ বিধায়ক এখনও সেই সিদ্ধান্তে রাজি নন। ফলে কিছু সাংসদ নতুন দলে যোগ দিলেও বিদ্রোহী বিধায়কদের বড় অংশ আপাতত অপেক্ষার পথেই হাঁটতে পারে।
আইনজীবীদের একাংশও আদালতের নির্দেশ না আসা পর্যন্ত কোনও তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ফলে রাজনৈতিক সমীকরণের চূড়ান্ত রূপ নির্ভর করছে আদালতের পরবর্তী পর্যবেক্ষণের উপর।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাজ্যপাল আর এন রবির ভাষণের মাধ্যমে শুরু হচ্ছে রাজ্যের বাজেট অধিবেশন। সকাল ১১টা থেকে অধিবেশন শুরু হবে। আগামী ২২ জুন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বাজেট পেশ করবেন। তার আগে বিধানসভা চত্বরে প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে।



