কলকাতায় (Kolkata) বাড়তে থাকা সাইবার প্রতারণা (Cyber Fraud) মোকাবিলায় বড় পদক্ষেপ নিল লালবাজার (Lalbazar)। এবার কলকাতা পুলিশের অধীন প্রতিটি থানায় চালু করা হবে ২৪ ঘণ্টার সাইবার সহায়তা কেন্দ্র বা সাইবার ডেস্ক। উদ্দেশ্য একটাই—প্রতারিত মানুষ যাতে আর থানায় থানায় ঘুরতে না হয় এবং দ্রুত অভিযোগ জানিয়ে খোয়া যাওয়া টাকা উদ্ধারের সুযোগ বাড়ে।
লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও অনেকেই সাইবার প্রতারণার শিকার হওয়ার পর কোথায় অভিযোগ জানাবেন, তা বুঝে উঠতে পারেন না। এর ফলে বহু ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীদের স্থানীয় থানা থেকে ডিভিশনাল সাইবার সেলে পাঠানো হয়, যা সাধারণ মানুষের জন্য অতিরিক্ত ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সম্প্রতি দক্ষিণ কলকাতার এক ব্যবসায়ী সাইবার জালিয়াতির শিকার হওয়ার পর স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে একই সমস্যার মুখোমুখি হন। ওই থানায় পৃথক সাইবার সহায়তা কেন্দ্র না থাকায় তাঁকে পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য দূরের ডিভিশনাল সাইবার সেলে যেতে হয়েছিল।
এই ধরনের সমস্যার পুনরাবৃত্তি রুখতেই নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে লালবাজার। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কলকাতা পুলিশের অধীন প্রতিটি থানায় সাইবার সহায়তা কেন্দ্র চালু করতে হবে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি থানায় এই পরিষেবা শুরু হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে অভিযোগ গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার থাকবেন।
কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বর্তমানে ডিজিটাল অ্যারেস্ট, কেওয়াইসি (KYC) আপডেটের নামে প্রতারণা, বিনিয়োগে মোটা লাভের প্রলোভন-সহ নানা কৌশলে প্রতারিত হচ্ছেন প্রবীণ থেকে তরুণ—সব বয়সের মানুষ। তাই প্রতিটি থানায় এমন একটি কেন্দ্র থাকবে, যেখানে অভিযোগ দায়েরের পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাৎক্ষণিক সহায়তা পাওয়া যাবে।
শুধু সাইবার ডেস্কই নয়, প্রতিটি থানায় মহিলাদের জন্য বিশেষ সহায়তা কেন্দ্র চালুর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সেখানে সার্বক্ষণিক একজন মহিলা পুলিশকর্মী দায়িত্বে থাকবেন, যাতে মহিলা অভিযোগকারীরা প্রয়োজনীয় সহায়তা সহজেই পান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইবার প্রতারণার ক্ষেত্রে প্রথম এক ঘণ্টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতারণার শিকার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশে অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি জাতীয় সাইবার হেল্পলাইন ১৯৩০-এ ফোন করা এবং ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল (National Cyber Crime Reporting Portal)-এ অভিযোগ নথিভুক্ত করা উচিত। পুলিশের দাবি, দ্রুত অভিযোগ দায়ের করা গেলে অনেক ক্ষেত্রেই টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে চলে যাওয়ার আগেই তা আটকে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। সেই লক্ষ্যেই প্রতিটি থানায় সাইবার ডেস্ক চালুর উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছে লালবাজার।






