গাইঘাটায় ধর্ষণ ও খুনের মামলায় অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর পর ছেলের শাস্তি নিয়ে মুখ খুললেন তাঁর বাবা-মা। মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনার চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে প্রহ্লাদের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়ার আগে ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানান তাঁরা। মা বলেন, সন্তানকে হারানোর যন্ত্রণা রয়েছে, তবে নাগরিক হিসেবে তিনি পুলিশের পদক্ষেপে খুশি। বাবার বক্তব্যও, পুলিশ যা করেছে, ঠিক করেছে।
একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে রবিবার গ্রেফতার হয়েছিলেন ২৩ বছরের প্রহ্লাদ। আদালত তাঁকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। সোমবার গভীর রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য তাঁকে নিয়ে যাওয়ার পথে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় তাঁর। পুলিশের দাবি, পালানোর চেষ্টা করে এক পুলিশকর্মীর রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালিয়েছিলেন প্রহ্লাদ। পাল্টা গুলিতে আহত হওয়ার পর হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রহ্লাদের মৃত্যুর পর মঙ্গলবার সকাল থেকেই হাসপাতালে ছিলেন তাঁর বাবা-মা। দুপুরে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় ছেলের মুখ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা। আনন্দবাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছেলেকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আমার কথা একবারও ভাবলি না! এ কী অন্যায় করলি বাবা…”। এর পর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে শুয়ে পড়েন তিনি।
ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রসঙ্গে প্রহ্লাদের মা জানান, ছেলে গ্রেফতার হওয়ার পর তাঁর কঠোর শাস্তি চেয়েছিলেন। তবে এনকাউন্টার চাননি তিনি। তাঁর বক্তব্য, পুলিশের হাতে ছেলেকে তুলে দিয়েছিলেন, কিন্তু এত পুলিশকর্মীর উপস্থিতিতে কী ভাবে পালানোর চেষ্টা সম্ভব হল, সেই প্রশ্নও তাঁর মনে রয়েছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছিল, প্রহ্লাদ পালানোর চেষ্টা করেছিলেন এবং গুলি চালিয়েছিলেন।
একই সঙ্গে ছেলের কাজের জন্য অনুশোচনা ও নাগরিক হিসেবে পুলিশের পদক্ষেপে সমর্থনের কথাও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, মা হিসেবে সন্তানকে হারানোর কষ্ট রয়েছে, কিন্তু অন্য কারও পরিবারের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটলে তিনিও শাস্তির দাবি জানাতেন। ভবিষ্যতে আর কেউ যাতে এমন অপরাধ না করে, সেই আশাও প্রকাশ করেন তিনি।
প্রহ্লাদ ও তাঁর বাবা বৈকুণ্ঠপুর বাজারে সেলুন চালাতেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে প্রহ্লাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ওঠার পর রবিবার তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আদালত তাঁকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিল।
মঙ্গলবার প্রহ্লাদের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য বারাসত মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। দেহ গাড়িতে তোলার সময় তাঁর বাবাও পুলিশের পদক্ষেপকে সমর্থন করেন। সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যা হয়েছে, ঠিক হয়েছে এবং তিনি খুশি।
তবে এনকাউন্টারের পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের দাবি এবং পরিবারের তরফে ওঠা প্রশ্ন—দু’টিই ঘটনার পরবর্তী তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।



