নজরবন্দি ব্যুরো: ওড়িশার ট্রেন দুর্ঘটনার পর কেটে গিয়েছে প্রায় আড়াই দিন। বাহানগায় ফের শুরু হয়েছে ট্রেন পরিষেবা। উদ্ধারকার্য শেষে স্বাভাবিক হয়েছে রেল চলাচল ব্যবস্থা।...
গত শুক্রবার ওড়িশার বালেশ্বরের রেল দুর্ঘটনা গোটা দেশে সাড়া ফেলে দিয়েছে। হু হু করে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। আহতের সংখ্যা হাজার ছুঁই ছুঁই। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় উদ্ধারকার্য। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার ফের লাইনচ্যুত হল মালগাড়ি। ঘটনাস্থল ওড়িশা।
অবশেষে প্রায় ৩০ ঘণ্টা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শেষ হয়েছে বালেশ্বরে দুর্ঘটনাস্থলের উদ্ধারকাজ। ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনাস্থল থেকে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া কামরাগুলি সরানো হয়েছে। নতুন করে শুরু হয়েছে ট্রেন চলাচল। কিন্তু ওই অভিশপ্ত রাতের বিভীষিকা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি অনেকেই। এখনও কাটেনি আতঙ্ক! এই মুহূর্তে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন করমণ্ডলের দুই চালক। এখন কেমন আছেন তাঁরা?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বালেশ্বরে ট্রেন দুর্ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের ৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ৩১ জনই দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা। এই জেলার মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে একটি ৬ সদস্যের কমিটি তৈরি করা হয়েছে।
এবার দুর্ঘটনার ৪০ ঘণ্টার মধ্যে কারণ স্পষ্ট করে দিলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব! কোনও যান্ত্রিক ত্রুটিবিচ্যুতি নয়! বরং করমণ্ডল এক্সপ্রেসের দুর্ঘটনায় মানুষকেই দায়ী করলেন কেন্দ্রিয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। ইতিমধ্যেই রবিবার বিকেলে এপ্রসঙ্গে তিনি ঘোষণা করে জানান, "মানুষের হাতেই করমণ্ডল বিপর্যয়! দোষীদের চিহ্নিত করা হয়েছে! তদন্তও সম্পূর্ণ করা হয়েছে।"
ভয়াবহ দুর্ঘটনার সাক্ষী রইল গোটা দেশ। মৃত্যু মিছিল যেন আর থামার নামই নিচ্ছিল না। এখনও এমন শতাধিক মানুষ আছে যাদের পরিচয় জানা যায়নি। যদিও নিজেদের দিক থেকে তাঁদের খোঁজ চালাচ্ছে ওড়িশা সরকার। কিন্তু রেল দুর্ঘটনার পর থেকেই উঠছিল একাধিক প্রশ্ন! আর সেই প্রশ্ন গুলির মধ্যে অন্যতম ছিল, ‘কবচ’ পদ্ধতি কি বাঁচাতে পারত না করমণ্ডল এক্সপ্রেসকে?