নজরবন্দি ব্যুরো: অবশেষে প্রায় ৩০ ঘণ্টা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শেষ হয়েছে বালেশ্বরে দুর্ঘটনাস্থলের উদ্ধারকাজ। ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনাস্থল থেকে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া কামরাগুলি সরানো হয়েছে। নতুন করে শুরু হয়েছে ট্রেন চলাচল। কিন্তু ওই অভিশপ্ত রাতের বিভীষিকা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি অনেকেই। এখনও কাটেনি আতঙ্ক! এই মুহূর্তে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন করমণ্ডলের দুই চালক। এখন কেমন আছেন তাঁরা?
আরও পড়ুন: রক্ষাকবচ থাকা সত্ত্বেও বিদেশ যাত্রায় বাধা, বিমানবন্দরে আটকানো হল রুজিরাকে


সূত্রের খবর, দুর্ঘটনায় কোনও রকমে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন করমণ্ডলের চালক জে এন মোহান্তি এবং সহকারী চালক এইচ বেহারা। বর্তমানে জখম অবস্থায় দু’জনেই ভুবনেশ্বরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আর সেই খানেই উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন দুই চালকের পরিবারও। এখনও পর্যন্ত করমণ্ডলের দুর্ঘটনায় ২৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১১০০-এর বেশি যাত্রী।

হাসপাতাল সূত্রের খবর, করমণ্ডলের চালক জে এন মোহান্তির বাঁ পায়ে চিড় ধড়েছে। তাঁর জ্ঞান রয়েছে। তবে এখনও দুর্বল। মানসিক ভাবেও বিধ্বস্ত তিনি। তাঁকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন চিকিৎসকরা। এছাড়াও হকারী চালক এইচ বেহারারও অবস্থা সঙ্কটজনক। তিনি আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন। অন্যদিকে, রবিবার করমণ্ডল বিপর্যয়কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের সুপারিশ করেছে রেল। রেলমন্ত্রী বলেছেন, “এখনই এই নিয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তদন্তের রিপোর্ট আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে এখনও পর্যন্ত যা যা কিছু তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তা সব মাথায় রেখেই এই দুর্ঘটনার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে দেওয়ার সুপারিশ করেছে রেলওয়ে বোর্ড।”



প্রসঙ্গত, করমণ্ডলে প্রায় কয়েক হাজার যাত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ওড়িশার হাসপাতালে ভর্তি ১১০০-রও বেশি যাত্রী। সঙ্কটজনক অবস্থায় রয়েছেন অনেকেই। অন্যদিকে, যাদের পরিবারের লোকজনেরা ওই এক্সপ্রেসে ছিলেন, তাদের খোঁজ চালাচ্ছেন অনেকেই। এহেন পরিস্থিতিতে রেল দুর্ঘটনায় আহতদের খোঁজ পেতেই ওড়িশা সরকারের তরফে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, আজ ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক ঘোষণা করলেন যে, বালেশ্বরের দুর্ঘটনায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি গুরুতর আহত হয়েছেন যারা, তাদের ১ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
কাটেনি আতঙ্ক, হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন করমণ্ডলের দুই চালক








