মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেবেন না—এই অবস্থান স্পষ্ট করার পরেই নতুন করে জোরালো হয়েছে একটি মৌলিক প্রশ্ন: সংবিধান অনুযায়ী যদি বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী পদ না ছাড়েন, তাহলে কি নতুন সরকার গঠন আটকে যাবে? বাস্তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়। ভারতের সাংবিধানিক কাঠামো এই ধরনের পরিস্থিতির জন্য স্পষ্ট পথ দেখিয়ে দিয়েছে।
ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, একটি রাজ্যে সরকার গঠনের মূল ভিত্তি হল বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা। অর্থাৎ, যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কদের সমর্থন পান, তিনিই মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দাবিদার। এখানে ব্যক্তিগতভাবে পদে থাকার ইচ্ছা বা অনিচ্ছা কোনও চূড়ান্ত ফ্যাক্টর নয়—গুরুত্বপূর্ণ হল আস্থা ভোট।


সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে কী হয়?
যদি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারান, তাহলে সংবিধানিকভাবে তাঁর পদে থাকা ন্যায্য থাকে না। সাধারণত এই পরিস্থিতিতে দু’টি পথ খোলা থাকে—
- তিনি নিজে ইস্তফা দেন
- রাজ্যপাল তাঁকে আস্থা ভোটে যেতে বলেন
যদি আস্থা ভোটে পরাজিত হন বা তা এড়িয়ে যান, তখন কার্যত তাঁর সরকার ‘সংখ্যালঘু’ হয়ে পড়ে।
রাজ্যপালের ভূমিকা কী?
এই অবস্থায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন রাজ্যপাল। সংবিধানের রীতি অনুযায়ী:


- রাজ্যপাল সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাতে পারেন
- বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা না দিলেও, সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে ব্যর্থ হলে তাঁকে অপসারণ করা যেতে পারে (প্রচলিত সাংবিধানিক প্রথা অনুযায়ী)
অর্থাৎ, মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকা সম্পূর্ণ নির্ভর করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার উপর—শুধু পদ না ছাড়ার ঘোষণায় কিছুই বদলায় না।
নতুন মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে শপথ নেবেন?
যদি অন্য কোনও দল বা জোট স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখাতে পারে, তাহলে—
- রাজ্যপাল তাঁদের নেতাকে ডেকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন
- সেই নেতা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারবেন
- বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে তখন ‘caretaker’ হিসেবেই ধরা হয়, যতক্ষণ না নতুন সরকার শপথ নেয়
বাস্তব উদাহরণ কী বলে?
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অতীতে একাধিকবার দেখা গেছে—
- সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছেন
- অনেক ক্ষেত্রে রাজ্যপাল সরাসরি নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে গেছেন
আইনের দৃষ্টিতে শেষ কথা
সংবিধানের মূল কথা স্পষ্ট:
“সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই সরকার টিকে থাকে।”
কেউ ইস্তফা না দিলেই তিনি মুখ্যমন্ত্রী থেকে যেতে পারবেন—এমন কোনও বিধান নেই। বরং সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে তাঁর পদে থাকা সাংবিধানিকভাবে অগ্রহণযোগ্য হয়ে পড়ে। সুতরাং, কোনও মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা না দিলেও নতুন সরকার গঠনে বাধা পড়ে না। শেষ কথা বলে বিধানসভা এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতা। রাজ্যপালের হস্তক্ষেপে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নিতে পারেন, যদি তিনি প্রমাণ করতে পারেন যে তাঁর পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কের সমর্থন রয়েছে।







