নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরেই বিস্ফোরক অভিযোগে সরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাটে সাংবাদিক বৈঠক থেকে তিনি স্পষ্ট জানালেন—এই ফল তিনি মানছেন না, বরং একে ‘লুট’ বলেই দাবি করছেন। একইসঙ্গে জানিয়ে দিলেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়ছেন না এবং লড়াই চালিয়ে যাবেন।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়ের পরদিনই এই প্রতিক্রিয়া আসে তৃণমূল নেত্রীর তরফে। ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০৭টিতে জয় পেয়ে বিজেপি সরকার গঠনের পথে, অন্যদিকে তৃণমূল থেমেছে ৮০ আসনে। এই ফল প্রকাশের পরই মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।


মমতার অভিযোগ, গণনার শুরু থেকেই পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি প্রভাবিত করা হয়েছে। তাঁর দাবি, “গণনাকেন্দ্রে ঢুকে মারধর হয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে সব ভেঙে দেওয়া হয়েছে।” সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্রের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “আমার এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আমাকে লাঠি মারা হয়েছে, লাথি মারা হয়েছে। সেই সময় সিসিটিভি বন্ধ ছিল।”
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। মমতার কথায়, “কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট। গণতন্ত্রের ওপর আঘাত করা হয়েছে। ১০০টা আসন লুট করা হয়েছে।” এমনকি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দিকেও ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে শীর্ষস্তরের ভূমিকা রয়েছে।
“হারিনি, লুট হয়েছে”—তাই মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেবনা, লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়ে বিস্ফোরক মমতা

হিংসার প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, “২০০৪ সালে এমন কিছু দেখিনি। ১৯৭২-এর কথা শুনেছি, কিন্তু এবার যা হয়েছে তা সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছে।” পাশাপাশি মহিলাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


নিজেদের শাসনকালের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমরা জেতার পর সিপিএমের কোনও পার্টি অফিসে হাত দিইনি, কাউকে অত্যাচার করিনি।” বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সেই সময়ের তুলনা টেনে তিনি রাজনৈতিক সহনশীলতার প্রশ্নও তোলেন।
পরাজয় মানতে নারাজ মমতা স্পষ্ট করে দেন, “আমরা হারিনি। এটা লুট।” তবে এই পরিস্থিতিতে দলীয় কর্মীদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা লড়াই চালিয়ে যাব, ঘুরে দাঁড়াব।”
ভোট-পরবর্তী হিংসার তদন্তে একটি তথ্য অনুসন্ধানী কমিটি গঠনের কথাও ঘোষণা করেন তিনি। পাশাপাশি বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র শক্তি আরও মজবুত করার কথাও জানান।
এদিনই তিনি জানান, সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরীবাল, উদ্ধব ঠাকরে, অখিলেশ যাদব ও হেমন্ত সোরেনসহ একাধিক বিরোধী নেতা তাঁকে ফোন করে সমর্থন জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, ফল ঘোষণার পর রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলল এই সাংবাদিক বৈঠক থেকেই।







