রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনিক কাঠামোতেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। বিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে—নতুন সরকার আর নবান্ন থেকে নয়, বরং ঐতিহ্যবাহী রাইটার্স বিল্ডিং থেকেই রাজ্য পরিচালনা করবে। ফলে মুখ্যমন্ত্রী কোথায় বসবেন, মন্ত্রিসভা কীভাবে কাজ করবে—তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর প্রস্তুতি।
সূত্রের খবর, ২৫ বৈশাখ নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড-এ। সেই প্রস্তুতি যেমন চলছে, তেমনই সমান্তরালভাবে মহাকরণে (রাইটার্স বিল্ডিং) প্রশাসনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজও শুরু হয়েছে।


মুখ্যমন্ত্রীর দফতর কোথায় হবে, অন্যান্য মন্ত্রীরা কোথায় বসবেন—এই নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা চলছে। ইতিমধ্যেই পূর্ত দফতরকে ভবন পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবনের কোন অংশ ব্যবহারযোগ্য, কোথায় সংস্কারের প্রয়োজন—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জানা যাচ্ছে, রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সামনের অংশ দ্রুত ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন পর এই ঐতিহাসিক ভবনকে ফের প্রশাসনের কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে।
এই প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য আগেই জানিয়েছেন, “আমাদের সরকার নবান্ন থেকে নয়, রাইটার্স থেকেই চলবে।” অর্থাৎ প্রশাসনিক দর্শনেই পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে গেরুয়া শিবির।


অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে। পরিষদীয় দলনেতা বাছাই করতে কলকাতায় আসছেন অমিত শাহ। তাঁর উপস্থিতিতে জয়ী বিধায়ক ও রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে ঠিক হবে নতুন মুখ। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি-ও।
সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ৯ তারিখ শপথ নেবে নতুন বিজেপি সরকার। রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনিক কেন্দ্র বদলের এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের শাসনব্যবস্থায় নতুন অধ্যায় সূচনা করতে চলেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।







