শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় দিলীপ-অগ্নিমিত্রা-নিশীথ, ব্রিগেডে শপথ নিলেন ৬ জন

ব্রিগেডে ঐতিহাসিক শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে শপথ নিলেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল-সহ আরও পাঁচ জন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা। কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে শপথ নিলেন আরও পাঁচ জন মন্ত্রী। বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু এবং নিশীথ প্রামাণিক।

শুভেন্দুর পর মঞ্চে প্রথম শপথ নিতে দেখা যায় দিলীপ ঘোষকে। তারপর একে একে শপথ নেন অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু এবং নিশীথ প্রামাণিক। তবে কে কোন দফতরের দায়িত্ব পাবেন, তা এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা হয়নি। সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই নতুন মন্ত্রিসভার বৈঠকে দপ্তর বণ্টন চূড়ান্ত করা হবে।

নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়া নেতাদের মধ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক ভারসাম্য রাখার চেষ্টা স্পষ্ট। শুভেন্দু অধিকারী জিতেছেন ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে। খড়্গপুর সদর থেকে জয়ী হয়েছেন দিলীপ ঘোষ। আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল, বনগাঁ উত্তরের অশোক কীর্তনিয়া, রানিবাঁধের ক্ষুদিরাম টুডু এবং মাথাভাঙার নিশীথ প্রামাণিক— সকলেই এবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য জয় পেয়েছেন।

গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ওঠে। ২০৭টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল— বাংলার প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী কে হচ্ছেন? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে অমিত শাহ— সকলেই বারবার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, বাংলাভাষী এবং বাংলার মাটির সঙ্গে যুক্ত কোনও নেতাকেই মুখ্যমন্ত্রী করা হবে।

সেই জল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতেই ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। অবশেষে শুক্রবার বিধায়কদলের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত করা হয়। বৈঠকের পর অমিত শাহ জানান, মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য আটটি প্রস্তাব জমা পড়েছিল এবং প্রতিটি প্রস্তাবেই একমাত্র নাম ছিল শুভেন্দু অধিকারীর। দ্বিতীয় কোনও নাম না আসায় তাঁকেই আনুষ্ঠানিক ভাবে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করা হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্য নির্বাচনেও বিজেপি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। সংগঠন, উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল, মহিলা প্রতিনিধিত্ব এবং দলীয় পুরনো মুখ— সব দিকেই ভারসাম্য রাখার কৌশল দেখা যাচ্ছে এই তালিকায়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত