কেরল হারিয়েও হার মানেনি বাম! ৫ এর মধ্যে ৩ রাজ্যেই লাল পতাকার দৃঢ় উপস্থিতি—কত জন বিধায়ক জানেন?

পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে ক্ষমতা না পেলেও কেরল, তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গে প্রতিনিধিত্ব বজায় রাখল বামেরা; ২০২১-এর ধাক্কার পর বাংলায় প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কেরল হাতছাড়া, দেশের কোথাও আর ক্ষমতায় নেই বাম শিবির—তবুও লড়াই থামেনি। পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের ফল স্পষ্ট করে দিল, মাটিতে সংগঠন থাকলে বাম রাজনীতি এখনও প্রাসঙ্গিক। আসাম, কেরল, পুদুচেরি, তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গ—এই পাঁচ রাজ্যের মধ্যে তিনটিতে বিধানসভায় নিজেদের প্রতিনিধিত্ব ধরে রাখতে পেরেছে বামেরা। হার-জয়ের অঙ্কের মধ্যেও তাই স্পষ্ট—লাল পতাকা এখনও সম্পূর্ণ মুছে যায়নি।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ চিত্র পশ্চিমবঙ্গ থেকে। ২০২১ সালের নির্বাচনে সম্পূর্ণ শূন্য হয়ে যাওয়া বামেরা ২০২৬-এ ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিল। ডমকল কেন্দ্র থেকে সিপিআইএম প্রার্থীর জয় শুধু একটি আসন নয়, বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রামের এক প্রতীকী প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংগঠনকে নতুন করে চাঙ্গা করার বার্তাও মিলছে এই ফলাফল থেকে।

তামিলনাড়ুতেও বাম শিবির তাদের উপস্থিতি জানান দিয়েছে। মোট ৪টি আসনে জয় পেয়েছে বাম প্রার্থীরা—এর মধ্যে ২ জন সিপিআই এবং ২ জন সিপিআইএম। বৃহত্তর জোট রাজনীতির ভিতরে থেকেও নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে তারা।

অন্যদিকে কেরলে ক্ষমতা হারালেও বামেদের শক্তি যে পুরোপুরি ক্ষয় হয়নি, তা প্রমাণ করে দিয়েছে ফলাফল। সেখানে মোট ৩৪ জন বাম বিধায়ক জয়ী হয়েছেন—এর মধ্যে ২৬ জন সিপিআইএম এবং ৮ জন সিপিআই প্রার্থী। অর্থাৎ সরকার না গড়লেও, বিরোধী শক্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি বজায় থাকছে।

আসাম ও পুদুচেরিতে বামেদের উপস্থিতি না থাকলেও, তিনটি রাজ্যে প্রতিনিধিত্ব ধরে রাখা এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। বিশেষ করে একাধিক রাজ্যে ক্রমশ দ্বিমুখী রাজনীতির মধ্যে দাঁড়িয়ে বামেদের এই লড়াই সংগঠনভিত্তিক রাজনীতির প্রাসঙ্গিকতাকেই সামনে আনছে।

সব মিলিয়ে, এই নির্বাচনের ফলাফল একদিকে যেমন বামেদের জন্য কঠিন বাস্তব তুলে ধরেছে, তেমনই অন্যদিকে নতুন করে সংগঠন গড়ে তোলার সম্ভাবনাও দেখাচ্ছে। ক্ষমতা না থাকলেও সংগ্রাম যে থামে না—এই বার্তাই যেন আবারও সামনে আনল লাল শিবির।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত