রাজনীতির ময়দানে বড় ধাক্কা—আসন কমে ৮০, মুখ্যমন্ত্রীও পরাজিত। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা হারানোর পর এখন তৃণমূল কংগ্রেসের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—দলকে কীভাবে নতুন করে গুছিয়ে তোলা হবে এবং কে হবেন বিরোধী দলনেতা? ফল ঘোষণার পর থেকেই জেলায় জেলায় রাজনৈতিক উত্তেজনা, দলীয় কাঠামো পুনর্গঠন আর নেতৃত্ব বাছাই—সব মিলিয়ে ব্যস্ততা চরমে সদ্য প্রাক্তন শাসকদলে।
২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর যে দৃশ্য দেখা গিয়েছিল—দলবদল, দখল ও ভাঙচুর—বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেকেই তার প্রতিধ্বনি দেখছেন উল্টো প্রেক্ষাপটে। বিভিন্ন জায়গা থেকে তৃণমূলের পার্টি অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠছে। একইসঙ্গে একাধিক নেতার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত।


এই অস্থিরতার মধ্যেই শুরু হয়েছে বিরোধী দলনেতা নিয়ে জোর জল্পনা। দলের ভেতরে-বাইরে একাধিক নাম ঘুরছে, প্রত্যেকের পক্ষে- বিপক্ষে রয়েছে আলাদা সমীকরণ।

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ফিরহাদ হাকিম। বন্দর কেন্দ্র থেকে প্রায় ৫৬ হাজারের বেশি ভোটে তাঁর জয় তাঁকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে সামনে এনেছে। সংগঠনের অভিজ্ঞতা ও সংখ্যালঘু সমাজে গ্রহণযোগ্যতা—দুই দিক থেকেই তিনি এগিয়ে বলে মনে করছেন অনেকেই।
দ্বিতীয় নাম হিসেবে উঠে আসছে জাভেদ খানের নাম। কসবা কেন্দ্র থেকে প্রায় ২০ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়ে তিনি নিজের রাজনৈতিক জমি ধরে রেখেছেন। কঠিন পরিস্থিতিতেও ফলাফল তাঁর পক্ষে গেছে—এই যুক্তিই তাঁকে আলোচনায় রেখেছে।



শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ও রয়েছেন দৌড়ে। বড় ব্যবধানে জয় পেলেও তাঁর বয়স নিয়ে দলের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে—দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েই আলোচনা।
অন্যদিকে মদন মিত্রের নামও গুরুত্ব পাচ্ছে। কামারহাটি থেকে জয়ী এই নেতা রাজনৈতিক মহলে তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য মুখ হিসেবেই পরিচিত। বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ ও জনভিত্তি—এই দুই কারণেই তাঁর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তালিকায় রয়েছেন কুণাল ঘোষও। বেলেঘাটা থেকে জয়ের পর তিনি দলের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিতি এবং আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছেন।

দলীয় সূত্রের দাবি, এই নামগুলির মধ্যে ফিরহাদ হাকিমই আপাতত এগিয়ে। তবে তাঁর নির্বাচন হলে রাজনৈতিক বার্তা কী দাঁড়াবে, তা নিয়েও দলের অন্দরে আলোচনা চলছে। অন্যদিকে মদন মিত্রকে অনেকেই তুলনামূলকভাবে ‘সেফ’ পছন্দ হিসেবে দেখছেন।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অবশ্যই নেতৃত্বের—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে। এই কঠিন সময়েই স্পষ্ট হবে, পরাজয়ের ধাক্কা সামলে তৃণমূল কোন পথে এগোতে চায়।







