রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরই আদালতে নতুন মোড়—সরকারি মামলাগুলিতে এখনই রায় না দিতে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন বিজেপি-ঘনিষ্ঠ আইনজীবীরা। তাঁদের যুক্তি, প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামোয় পরিবর্তনের এই সংক্রমণকালে তাড়াহুড়ো করে রায় দিলে জটিলতা তৈরি হতে পারে। ফলে আপাতত সব মামলা বিচারাধীন রাখার আর্জিই জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টে বিষয়টি উত্থাপন করেন আইনজীবী সুস্মিতা সাহা দত্ত। আদালতে তাঁর বক্তব্য, সদ্য সরকার বদলের ফলে পূর্বতন সরকারের পক্ষে দাঁড়ানো আইনজীবীরা কার্যত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছেন। নতুন সরকারের পক্ষে আইনজীবীদের তালিকা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত মামলাগুলির সুষ্ঠু প্রতিনিধিত্ব সম্ভব নয়।
আইনজীবীদের দাবি, এই মুহূর্তে প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল চলছে। নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত রাজ্য-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলিতে রায় ঘোষণা হলে তা ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা ডেকে আনতে পারে। তাই আদালতের কাছে আবেদন—এই সংক্রমণ পর্বে মামলাগুলি বিচারাধীন রাখা হোক।
প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল অবশ্য সরাসরি কোনও সিদ্ধান্ত জানাননি। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, প্রতিটি মামলার বিষয়বস্তু আলাদা করে বিবেচনা করেই এই অনুরোধ নিয়ে আদালত সিদ্ধান্ত নেবে। অর্থাৎ, blanket order নয়—case by case ভিত্তিতেই বিষয়টি দেখা হবে।
উল্লেখ্য, সোমবারই রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ আমূল বদলে গিয়েছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা তৃণমূলকে পরাস্ত করে বিজেপি সরকার গঠনের পথে। যদিও এখনও সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দিনক্ষণ ঘোষণা হয়নি, তবুও প্রশাসনিক স্তরে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বিচারাধীন মামলাগুলিকে ঘিরে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বিজেপি-সমর্থিত আইনজীবী মহল। তাঁদের লক্ষ্য—নতুন সরকারের আইনজীবী প্যানেল তৈরি না হওয়া পর্যন্ত আদালতে কোনও গুরুত্বপূর্ণ রায় যেন ঘোষিত না হয়। তবে শেষ কথা বলবে আদালতই—এখন নজর সেই দিকেই।



