ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর খালি করার জন্য দমকল বিভাগের দেওয়া নোটিস খারিজ করে দিল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। একই সঙ্গে ভবনটির অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে প্রয়োজনীয় কী কী ব্যবস্থা নিতে হবে, তা জানাতে দমকল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
৯, ক্যামাক স্ট্রিটের ভবনের সপ্তম ও অষ্টম তলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর রয়েছে। অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক ঘাটতির অভিযোগ তুলে ওই অংশ খালি করার নির্দেশ দিয়েছিল দমকল। সেই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে মামলা করে তৃণমূল। মামলাটির শুনানি করেন বিচারপতি কৃষ্ণ রাও।
ঘটনার সূত্রপাত সেপ্টেম্বরের শুরুতে। দমকল বিভাগের পরিদর্শনের পর ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। দমকলের তরফে জানানো হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট অংশে প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ নয়। সেই ভিত্তিতেই ভবনের ওই অংশ খালি করার নোটিস দেওয়া হয়।
দমকলের বক্তব্য অনুযায়ী, ভবনের ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেটের মেয়াদ ২০২৬ সালের ১০ অগস্ট শেষ হয়ে গিয়েছিল। পরিদর্শনের সময় সপ্তম তলায় গ্যাস সিলিন্ডার এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার কিছু ত্রুটির কথাও সামনে আসে। ফায়ার অ্যালার্ম এবং স্প্রিংকলার ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। এগুলি অবশ্য মামলার শুনানিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির মধ্যে বিতর্কের বিষয় হয়ে ওঠে।
অভিষেকের পক্ষের আইনজীবী কিশোর দত্ত আদালতে দাবি করেছিলেন, চিহ্নিত ত্রুটিগুলি মূলত ভবনের মালিকপক্ষের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তাঁর বক্তব্য ছিল, পরিদর্শনের সময় পাওয়া গ্যাস সিলিন্ডারগুলি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রশ্ন তোলা হয়, যদি ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থায় সমস্যা থাকে, তা হলে শুধু নির্দিষ্ট দু’টি তলাকে কেন খালি করার নির্দেশ দেওয়া হল।
অন্যদিকে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিত মিত্র দমকলের বক্তব্য তুলে ধরে জানান, সংশ্লিষ্ট তলাগুলিতে বেশ কিছু অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম মানা হয়নি। ফায়ার অ্যালার্ম কাজ না করা এবং অন্যান্য তলার তুলনায় স্প্রিংকলারের সংখ্যা কম থাকার বিষয়টিও আদালতে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর এই মামলায় দমকলের ৪ সেপ্টেম্বরের নোটিস কার্যকর করার উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট। বিচারপতি কৃষ্ণ রাও সে সময় মন্তব্য করেছিলেন, ফায়ার সেফটি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পেতে সময় লাগে এবং চিহ্নিত ঘাটতি পূরণের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সময় দেওয়ার সুযোগ ছিল। চূড়ান্ত নির্দেশের জন্য ১৬ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য হয়েছিল।
এবার সেই মামলাতেই দমকলের খালি করার নোটিস খারিজ করল আদালত। তবে এর অর্থ এই নয় যে ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়টি শেষ হয়ে গেল। আদালত প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে দমকলের কাছ থেকে স্পষ্ট নির্দেশিকা চেয়েছে।
অর্থাৎ, ক্যামাক স্ট্রিটের দফতর খালি করার জন্য জারি করা ওই নোটিস আর কার্যকর থাকছে না, কিন্তু ভবনটি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে অগ্নিনিরাপত্তার প্রয়োজনীয় মান বজায় রাখার বিষয়টি বহাল থাকছে। কোন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, সেই বিষয়ে দমকল কর্তৃপক্ষের নির্দেশই এখন পরবর্তী পদক্ষেপের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
এই মামলার পাশাপাশি ক্যামাক স্ট্রিটের দফতরকে ঘিরে লিজ সংক্রান্ত একটি পৃথক আইনি বিরোধও রয়েছে। আগের শুনানিতে অভিষেকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, সপ্তম ও অষ্টম তলার লিজ বাতিলের বিরুদ্ধেও নিম্ন আদালতে মামলা করা হয়েছে। ফলে একই ভবনকে ঘিরে সম্পত্তি ও অগ্নিনিরাপত্তা—দুই পৃথক বিষয়েই আইনি প্রক্রিয়া চলছে।



