নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের আইনি জটিলতায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। জামিনের শর্ত অনুযায়ী নিয়মিত তদন্তকারী আধিকারিকের কাছে হাজিরা দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি সেই শর্ত পালন করছেন না বলে অভিযোগ তুলেছে সিবিআই। বৃহস্পতিবার কলকাতার বিশেষ সিবিআই আদালতে এই অভিযোগ জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী শুনানি হবে ২৯ সেপ্টেম্বর।
সিবিআইয়ের দাবি, পার্থ চট্টোপাধ্যায় জামিন পাওয়ার পর থেকেই নিয়মিত হাজিরা এড়িয়ে যাচ্ছেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কলকাতা হাই কোর্ট যে শর্তসাপেক্ষে তাঁকে জামিন দিয়েছিল, তার অন্যতম শর্ত ছিল সপ্তাহে এক দিন তদন্তকারী আধিকারিকের কাছে হাজিরা দেওয়া। পাশাপাশি আদালতের প্রতিটি শুনানিতে হাজির থাকা-সহ আরও কয়েকটি শর্তও ছিল।
হাই কোর্টের নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী পার্থকে পাসপোর্ট জমা রাখতে হয়েছিল এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া বিচারাধীন এলাকার বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ ছিল। সাক্ষীদের প্রভাবিত করা বা তথ্যপ্রমাণ নষ্ট না করার নির্দেশও ছিল। কোনও সরকারি পদে নিযুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা ছিল তাঁর জামিনের শর্তে।
সিবিআইয়ের অভিযোগের বিরোধিতা করেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবী। তাঁদের দাবি, প্রাক্তন মন্ত্রী শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং মাঝেমধ্যেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। সেই কারণেই নিয়মিত সিবিআই দফতরে গিয়ে হাজিরা দেওয়া তাঁর পক্ষে সবসময় সম্ভব হচ্ছে না বলে আদালতে জানানো হয়েছে।
পার্থের আইনজীবী আরও জানান, তাঁর মক্কেল শারীরিক অসুস্থতার কারণে সশরীরে হাজির হতে না পারলেও ভার্চুয়ালি হাজিরা দেওয়ার বিষয়ে সিবিআইকে ই-মেল করা হয়েছিল। হাসপাতাল থেকে আগেও তিনি ভার্চুয়াল মাধ্যমে শুনানিতে অংশ নিয়েছেন বলে আদালতে দাবি করা হয়েছে। তবে এই যুক্তির বিরোধিতা করেছে তদন্তকারী সংস্থা।
এই পরিস্থিতিতে সিবিআই আদালতের কাছে জামিনের শর্ত লঙ্ঘনের বিষয়টি তুলে ধরেছে। প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, তদন্তকারী সংস্থার তরফে তাঁর জামিন বাতিলের আবেদনও জানানো হয়েছে। তবে জামিন বাতিল হবে কি না, সেই বিষয়ে বৃহস্পতিবার কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর বিষয়টির পরবর্তী শুনানি রয়েছে।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০২২ সালের জুলাইয়ে প্রথমে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে। পরে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় সিবিআইও তাঁকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘ সময় হেফাজতে থাকার পর ২০২৫ সালের শেষ দিকে বিভিন্ন মামলায় জামিন পাওয়ার পর তিনি জেল থেকে মুক্তি পান।
তাঁর জামিনের ক্ষেত্রে আদালত একাধিক শর্ত বেঁধে দিয়েছিল। সেই শর্তের মধ্যে তদন্তকারী আধিকারিকের কাছে নিয়মিত হাজিরার বিষয়টি অন্যতম ছিল। এখন সেই শর্তই পালন করা হয়নি বলে সিবিআইয়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফের আদালতে শুরু হয়েছে আইনি লড়াই।
তবে সিবিআইয়ের অভিযোগ এখনও আদালতে বিচারাধীন। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবী তাঁর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে হাজিরা দিতে না পারার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ফলে ২৯ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে আদালত দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর কী নির্দেশ দেয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।



