দিশা সালিয়ানের মৃত্যু ঘিরে তদন্তে নতুন মোড়। সিবিআইয়ের এফআইআরে নাম ওঠার পরই শিবসেনা (UBT) নেতা আদিত্য ঠাকরের বিরুদ্ধে ৫০০ কোটি টাকার মানহানির নোটিস পাঠালেন দিশার বাবা সতীশ সালিয়ান। প্রাক্তন মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখকেও ওই আইনি নোটিসে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে একাধিক রিপোর্টে জানা যাচ্ছে। নোটিসে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
দিশা সালিয়ান ছিলেন অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের প্রাক্তন ম্যানেজার। ২০২০ সালের জুনে মুম্বইয়ের মালাডে একটি বহুতল থেকে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়। সেই সময় ঘটনাটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে দিশার বাবা তদন্তে একাধিক প্রশ্ন তুলে নতুন করে তদন্তের দাবি জানান। গত ২ সেপ্টেম্বর বম্বে হাই কোর্টের নির্দেশের পর বিষয়টি নতুন করে সিবিআই তদন্তের আওতায় আসে।
১৪ সেপ্টেম্বর সিবিআই এই ঘটনায় এফআইআর দায়ের করে। সেখানে আদিত্য ঠাকরে, রিয়া চক্রবর্তী, দিনো মোরিয়া, সুরজ পাঞ্চোলি-সহ একাধিক ব্যক্তির ভূমিকা তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে, অনিল দেশমুখ, পরমবীর সিং, সচিন ওয়াজে এবং বেশ কয়েক জন পুলিশ আধিকারিকের নামও এফআইআরে রয়েছে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। সিবিআইয়ের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, এফআইআরে নাম থাকা মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়নি। তদন্তে তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। বম্বে হাই কোর্টও তদন্তের ক্ষেত্রে প্রমাণ ছাড়া কাউকে অভিযুক্ত না করার নির্দেশ দিয়েছিল।
সিবিআইয়ের এফআইআরে আরও কিছু গুরুতর অভিযোগের তদন্তের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কথিত অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, আত্মহত্যার একটি মিথ্যা কাহিনি তৈরি বা প্রচার, প্রমাণ গোপন, নষ্ট বা বিকৃত করা এবং সরকারি নথিপত্র নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ। এগুলি বর্তমানে তদন্তাধীন অভিযোগ, আদালতে প্রমাণিত তথ্য নয়।
এদিকে নিজের নাম সিবিআইয়ের নথিতে আসার পর বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন আদিত্য ঠাকরে। তাঁর দাবি, তিনি কোনওদিন দিশা সালিয়ানের সঙ্গে দেখা করেননি বা তাঁর সঙ্গে পরিচয় ছিল না। গত ছয় বছর ধরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এবং ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকে তাঁর নাম এই ঘটনায় জড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নিরপেক্ষভাবে তদন্ত চালানোর দাবিও জানিয়েছেন শিবসেনা (UBT) নেতা।
এর পরেই সতীশ সালিয়ানের তরফে ৫০০ কোটি টাকার মানহানির আইনি নোটিস পাঠানো হয়। নোটিসে বলা হয়েছে, দিশার মৃত্যুর তদন্ত ও বিচার চাওয়ার প্রচেষ্টাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বর্ণনা করা তাঁদের জন্য অপমানজনক। সতীশের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর মক্কেল মেয়ের মৃত্যুর সত্য সামনে আনার জন্য আইনি পথে এগিয়েছেন এবং আদালতের নির্দেশেই তদন্তের প্রক্রিয়া চলছে।
আইনি নোটিসে আদিত্য ঠাকরে ও অনিল দেশমুখের কাছে নিঃশর্ত ও প্রকাশ্য ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি ৫০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। তাঁদের সাত দিনের মধ্যে দাবি মেনে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
দিশা সালিয়ান মামলায় এখন একদিকে চলছে সিবিআইয়ের নতুন তদন্ত, অন্যদিকে রাজনৈতিক ও আইনি চাপানউতোরও তীব্র হয়েছে। সিবিআই তদন্তে বিভিন্ন ব্যক্তির ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে কারও বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে এখনও চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে নতুন তথ্য সামনে এলে মামলার গতিপথ আরও স্পষ্ট হতে পারে।



