নজরবন্দি ব্যুরো: সোমবার করমণ্ডল এক্সপ্রেসে নিহত চারজন যাত্রীর মৃতদেহ কলকাতায় আনা হয়। মৃতদের শেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাতে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা প্রবেশের মুখে দ্বিতীয় হুগলি সেতুতে শেষ শ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী। সড়ক পথে ওড়িশা থেকে মৃতদেহগুলি আনা হয়েছে।
আরও পড়ুন: চতুর্থবারও বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হবেন মমতা, দাবি অভিষেকের


সোমবার বিকেলে পৌনে ৪টের সময়ে দ্বিতীয় হুগলি সেতুর টোল প্লাজায় এসে পৌঁছয় দেহগুলি। সেখানেই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী। যে চার জনের দেহ সোমবার এসেছে তাঁরা সকলেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা। তাঁরা হলেন কুলপির অনিমেষ মণ্ডল, সাগরের স্বপ্না প্রামাণিক, বিষ্ণুপুরের বিশ্বনাথ চক্রবর্তী এবং বারুইপুরের সৌরভ রায়। তাঁদের আত্মীয়দের সঙ্গেও কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

অন্যদিকে, ৫১ ঘণ্টা পর বালেশ্বরে চালু হয়েছে ট্রেন। আপ এবং ডাউন লাইনে ট্রেনের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে চালানো হয় মালগাড়ি। বাহানাগা স্টেশন থেকে আপ এবং ডাউন লাইনে চলেছে প্যাসেঞ্জার ট্রেন। রবিবার রাত ১২টা বেজে ৫ মিনিটে দুই লাইনেই ট্রেন চালু হল। শনিবার দুপুরেই উদ্ধারকাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়ে দিয়েছিল এনডিআরএফ, এসডিপআরএফ। শনিবার রাত থেকেই ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজে হাত দেয় রেল কর্মীরা। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলেছে এই কাজ।



রেলওয়ে সূত্রে জানা গিয়েছে, রাত ১০টা ৪০ মিনিট নাগাদ প্রথমে ডাউন লাইনে একটি মালগাড়ি চালানো হয়। এটা ছিল ট্রায়াল রান। এরপর রাত ১১টা ৩৯ মিনিটে চালানো হয় দ্বিতীয় মালগাড়িটি। এরপর আপ লাইনে প্রথম ট্রেন চালানো হয় মাঝরাতে, ১২টা বেজে ৫ মিনিটে। ইতিপূর্বে, রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছিলেন মঙ্গলবার রাত কিংবা বুধবার সকালের মধ্যে ট্রেন পরিষেবা স্বাভাবিক করে দেওয়া সম্ভব হবে।
রাজ্যে আসলো করমণ্ডলের চার যাত্রীর দেহ, শেষ শ্রদ্ধা জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় দুর্ঘটনার পর থেকেই অধিকাংশ ট্রেনই বাতিল করা হয়েছে বালেশ্বর রুটে। এর ফলে চেন্নাইগামী, ওড়িশাগামী ট্রেনগুলি বাতিল করা হয়। অন্যদিকে চেন্নাই, ওড়িশাতে আটকে থাকা কলকাতাগামী যাত্রীরা ফিরে আসতে গিয়ে বিপাকে পড়েন। কবে ফের পরিষেবা স্বাভাবিক হবে, সেদিকেই তাকিয়ে ছিলেন যাত্রীরা। বিকল্প পথ দিয়ে কার্যত হন্যে হয়ে ছুটোছুটি করছেন ফিরে আসার জন্যে আটকে পড়া যাত্রীরা। এদিকে নবীন পট্টনায়েকের ওড়িশা সরকার আটকে থাকা যাত্রীদের কলকাতায় ফিরে আসার জন্যে বিনামূল্যে বাস পরিষেবা চালু করেছে।







