নিয়োগ দুর্নীতিতে জুলাই মাস থেকে জেলে বন্দী রয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। জামিন কবে পাবেন? তা নিয়ে এখনও সংশয় দূর হচ্ছে না। এরই মধ্যে সোমবার ফুরফুরে মেজাজে দেখা গেল তাঁকে। আদালতে প্রবেশের মুখে রবী বন্দনায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সোনার তরী কবিতার দুই লাইন শোনালেন। যেখানে তাঁর জীবনের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলীর সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
এবার Partha Chaterjee –র প্রাক্তন আপ্ত সহায়কের বাড়িতে সিবিআই। বৃহস্পতিবার সকালে নিউ ব্যারাকপুরের জগদীশচন্দ্র রোডে সুকান্তের বাড়িতে হানা দিয়েছে সিবিআই। কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ঘিরে চলছে তল্লাশি। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের স্পেশাল ডিউটি অফিসার হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন তিনি। জানা গেছে, তাঁর বাবা এই মুহুর্তে এই বাড়িতে রয়েছেন।
এক বছর হতে চলল সমস্ত রকম পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বেহালার মানুষ। অবিলম্বে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে বিধায়ক পদ থেকে সরিয়ে পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে সরব হয়েছে বাম যুব নেতৃত্ব। রবিবার বেহালার LIC মোড়ে ক্যাম্প করে জনমত সংগ্রহ শুরু করে তারা। এবার তা নিয়ে কটাক্ষ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, পার্থকে সিপিএম জিতিয়েছে।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আজ পার্থ চট্টোপাধ্যায় সহ অন্যান্যদের জেল হেফাজত শেষে আদালতে পেশ করা হয়। এদিন আদালত থেকে বের হওয়ার সময় দুর্নীতি সমস্ত দায় ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এদিন তিনি বলেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে মন্ত্রীর কোনও রোল নেই। নিয়োগের ক্ষেত্রে দায় শুধুমাত্র নিয়োগ কর্তাদের। একইসঙ্গে অর্পিতার ফ্ল্যাটে কোথা থেকে টাকা এল? তা নিয়েও উত্তর দিলেন না তিনি।
প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে আদালতে পেশ করা হয়। তাঁর হাতে আংটি নিয়ে ওয়াকিবহাল মহলে তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছিল। নিয়মের বাইরে গিয়ে ধরনের কাজ করেছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। সেকারণে প্রেসিডেন্সি জেলের সুপারকে তলব করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এনিয়ে এবার পার্থকে খোঁচা দিলেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত নেতা কুন্তল ঘোষ। আদালতে প্রবেশের সময় পার্থকে খোঁচা দিয়ে বললেন, আমার হাতে আংটি নেই, ঘামাচি আছে।
চাকরিপ্রার্থীদের সুবিধে পাইয়ে দেওয়ার জন্য কুন্তলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন জীবনকৃষ্ণ সাহা। সিবিআই সূত্রে খবর, ৯০০ জনের চাকরির বরাত এসেছিল কুন্তলের কাছ থেকে। প্রাইমারি থেকে আপার প্রাইমারি সব ধরনের প্রার্থীই আসতেন কুন্তলের কাছে। সেই তালিকা পরে চলে যেত বিধায়ক জীবনকৃষ্ণের কাছে। জীবনের দুর্নীতির বহর দেখে মনে হচ্ছে পার্থ-কুন্তলরা চুনোপুটি।
নিয়োগ দুর্নীতিতে বিভাসের নাম উঠে আসার পর থেকেই তাঁর সঙ্গে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থর যোগ নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, বিভাসের মাথায় ছিল পার্থর হাত। সেকারণেই দুর্নীতিতে সহজে প্রভাব খাটিয়েছিলেন তিনি। তবে শুধুমাত্র চাকরি বিক্রি নয়, আশ্রমের আড়ালে কুকীর্তি থেকে শুরু করে, জোর করে জমি লিখিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিভাসের বিরুদ্ধে।