১৫ বছর পর সিপিএমের মুখপত্রে রাজ্য সরকারি বিজ্ঞাপন, প্রথম পাতায় মোদী-শুভেন্দু

১৫ বছর পর সিপিএমের প্রভাতী মুখপত্রে ফিরল রাজ্য সরকারি বিজ্ঞাপন। প্রথম পাতায় মোদী-শুভেন্দুর ছবি ঘিরে শুরু রাজনৈতিক বিতর্ক।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দীর্ঘ দেড় দশক পর বড় পরিবর্তনের সাক্ষী বাংলার রাজনৈতিক পরিসর। রাজ্যে সরকার বদলের পর এবার সিপিএমের প্রভাতী মুখপত্রেও ফিরল রাজ্য সরকারি বিজ্ঞাপন। শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে ওই সংবাদপত্রের প্রথম পাতায়। সেখানে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী-মনোনীত শুভেন্দু অধিকারীর ছবিও। আর এই ঘটনাকেই রাজনৈতিক মহল দেখছে বাংলার পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতার গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে।

সিপিএমের অভিযোগ ছিল, ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তাদের দলীয় মুখপত্রকে রাজ্য সরকারের বিজ্ঞাপন দেওয়া কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। শুধু বিজ্ঞাপন নয়, সরকারি গ্রন্থাগারে কোন সংবাদপত্র রাখা হবে, তা নিয়েও তৎকালীন সরকারের ‘বাছবিচার’ ছিল বলে বারবার অভিযোগ তুলেছিল আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। সেই কারণেই ২০১৪ সালে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থও হয়েছিল সিপিএম।

সেই মামলায় আদালত পর্যবেক্ষণ করেছিল, কোনও রাজনৈতিক দলের মুখপত্র যদি সংবাদপত্রের আইন মেনে চলে, তবে তাকে সংবাদপত্র হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত এবং বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে সব সংবাদমাধ্যমের প্রতি সরকারের সমান দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন। যদিও আদালত কোনও নির্দিষ্ট নির্দেশ দেয়নি। সিপিএমের দাবি, সেই পর্যবেক্ষণের পরেও গত ১৫ বছরে রাজ্য সরকারের বিজ্ঞাপন তাদের মুখপত্রে আর প্রকাশিত হয়নি।

নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই পরিস্থিতির বদল ঘটেছে বলেই মনে করছে আলিমুদ্দিন। দলের একাংশের মতে, এটি শুধু রাজনৈতিক সৌজন্যের প্রশ্ন নয়, আর্থিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গত এক দশকে আর্থিক সঙ্কটে ধুঁকছে সিপিএমের একাধিক প্রকাশনা। প্রভাতী মুখপত্র চালানোও ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছিল।

এ প্রসঙ্গে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, “মমতা সরকার ক্ষমতায় এসেই বিজ্ঞাপন বন্ধ করে স্বৈরাচারী মনোভাব দেখিয়েছিল। এটাই স্বাভাবিক নিয়ম হওয়া উচিত ছিল। এখন দেখতে হবে ভবিষ্যতে এই নীতি বজায় থাকে কি না।” একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থাগুলির বিজ্ঞাপনেও বিজেপির ‘বাছবিচার’ রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে, সেই প্রবণতা যাতে না বাড়ে, তা নজরে রাখতে হবে।

তবে বিষয়টি নিয়ে দলের অন্দরেই মতভেদ তৈরি হয়েছে। সিপিএমের একাংশ প্রশ্ন তুলেছে, যে সংবাদপত্র দীর্ঘদিন বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই চালিয়েছে, সেই কাগজেই কীভাবে মোদী-শুভেন্দুর ছবি-সহ বিজ্ঞাপন প্রকাশ পেল? যদিও দলের প্রবীণ নেতৃত্বের বক্তব্য, সরকার ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে পার্থক্য বোঝা প্রয়োজন। সরকারি বিজ্ঞাপন প্রকাশ মানেই মতাদর্শগত অবস্থান বদল নয়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলায় পালাবদলের পরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। আর সেই পরিবর্তনের অন্যতম প্রতীক হিসেবেই দেখা হচ্ছে সিপিএমের মুখপত্রে প্রকাশিত এই বিজ্ঞাপনকে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত